সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনে তৃণমূল কংগ্রেসকে পুরোপুরি বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনকে কড়া চিঠি দিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন। তাঁর অভিযোগ, সংসদের স্থায়ী কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় বিরোধীদের কোণঠাসা করে সংসদকে কার্যত একটি ‘গভীর ও অন্ধকার কুঠুরিতে’ পরিণত করা হচ্ছে। 

শনিবার, ৩ অক্টোবর রাজ্যসভার বুলেটিনের মাধ্যমে ২০২৬-২৭ বর্ষের জন্য দফতর-ভিত্তিক স্থায়ী কমিটিগুলি পুনর্গঠনের তালিকা প্রকাশিত হয়। ডেরেকের বক্তব্য, রাজ্যসভার এক্তিয়ারভুক্ত আটটি স্থায়ী কমিটির মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে একটি কমিটিরও চেয়ারপার্সন বা সভাপতির পদ দেওয়া হয়নি। রাজ্যসভায় বিজেপি ও কংগ্রেসের পরেই তৃতীয় বৃহত্তম দল তৃণমূল। তা সত্ত্বেও ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ বর্ষে তৃণমূলের হাতে থাকা কমিটির দায়িত্বও এ বার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তিনি মনে করিয়ে দেন, এর আগে ২০১৯ সালেও তৃণমূলের সঙ্গে একই বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছিল, যা পরে সংশোধন হলেও ফের সেই পুরোনো বঞ্চনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। 

শুধু স্থায়ী কমিটির নেতৃত্ব দেওয়াই নয়, সামগ্রিক সংসদীয় রীতিনীতি ধ্বংসের অভিযোগ তুলে চিঠিতে একাধিক পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে প্রতি ১০টি বিলের মধ্যে ৬টি পাঠানো হতো স্থায়ী কমিটিতে পর্যালোচনার জন্য, অথচ ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র দুটিতে। একই ভাবে বর্তমানে প্রতি ১০টি বিলের মধ্যে ৪টি অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশ আকারে আনা হচ্ছে, যা কুড়ি বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণ। পাশাপাশি প্রথম লোকসভায় যেখানে প্রতি অধিবেশনে গড় বৈঠক হতো ৪৫ দিন, সপ্তদশ লোকসভায় তা তলানিতে ঠেকে মাত্র ১৮ দিনে এসে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে ২০১৯ সাল থেকে লোকসভার ডেপুটি স্পিকারের পদ এখনও শূন্য পড়ে থাকার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে গভীর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।