জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবার একমঞ্চে নিয়ে এল রাজ-উদ্ধবকেও। রবিবার মুম্বইয়ে প্রায় দু দশক পরে রাজনৈতিক মিছিলে পা মেলালেন দুই ভাই। এদিন মুম্বইয়ে আয়োজিত ‘বিরাট গর্জন মোর্চা’য় একসঙ্গে যোগ দিলেন শিবসেনা (উদ্ধব) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে (Uddhav Thackeray) এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ ঠাকরে (Raj Thackeray)। তাঁদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দেন কংগ্রেস এবং শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপির একাধিক নেতাও।

আরও পড়ুন: হাসিনার প্রত্যর্পণে ‘ডেডলাইন নেই’! দিল্লির বার্তায় ফের প্রকাশ্যে ভারত-বাংলাদেশ টানাপোড়েন

এ দিন মিছিল থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন রাজ এবং উদ্ধব দুজনেই। রাজ ঠাকরে জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে বলেন, “জ্ঞানেশ কাকা, ভোট লুঠ করবেন না।” মহারাষ্ট্রে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে ভোটের আগে লক্ষ লক্ষ নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল এবং এ বার এসআইআরের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্য দিকে, উদ্ধব ঠাকরেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে জার্মানির প্রাক্তন শাসক অ্যাডলফ হিটলারের তুলনা টেনে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও তোলেন উদ্ধব। এ দিনের কর্মসূচিতে কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা দেখা যায়নি। অংশগ্রহণকারীরা মূলত জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলে হাঁটেন। ফলে বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি থাকলেও কর্মসূচিটিকে দলীয় রঙ ছিল না। 

তবে এদিনের মিছিল শুধু নির্বাচন কমিশন-বিরোধী প্রতিবাদের কারণে নয়, মহারাষ্ট্রের রাজনীতির সমীকরণের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ভুলে একই কর্মসূচিতে হাজির হলেন উদ্ধব এবং রাজ ঠাকরে। বালাসাহেব ঠাকরের জীবদ্দশায় শিবসেনার উত্তরাধিকার নিয়ে দুই ভাইকে ঘিরে নানা আলোচনা ছিল। পরে উদ্ধব শিবসেনার নেতৃত্বে উঠে আসেন। রাজ দল ছেড়ে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা গঠন করেন। সময়ের সঙ্গে দুই দলের রাজনৈতিক পথও আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই দূরত্ব কমার ইঙ্গিত মিলছিল। রবিবারের মিছিল সেই জল্পনাকে আরও জোরালো করল।

আরও পড়ুন: যন্তর মন্তরে ‘পুলিশি রাজ’! সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগে অমিত শাহকে নিশানা রাহুলের

উল্লেখ্য, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। ২ অক্টোবর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে মিলে দিল্লি এবং মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ হয়েছিল। দিল্লির কর্মসূচিতে বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতীশী, সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, আইসার নেত্রী নেহা বোরা এবং আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং-সহ একাধিক বিরোধী নেতা ছিলেন। এ বার আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ফের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।