সোনার দোকান থেকে চুরির নানা কায়দার কথা শোনা যায়। কিন্তু এবার সামনে এল এমন এক পদ্ধতি, যেখানে টাকা না দিয়েই গয়না নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। কোনও নগদ নয়, কার্ডও নয় মোবাইলের স্ক্রিনে টাকা পাঠানোর ‘সফল’ বার্তা দেখিয়েই দোকানদারকে বিশ্বাস করানো হত টাকা পেমেন্ট হয়ে গিয়েছে। সেই কায়দায় গয়না হাতানোর অভিযোগে নরেন্দ্রপুরে এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়ায় সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলেছে। এই বিষয়টি নিয়ে সোনার দোকানদের সতর্ক করেছে সোনারপুর উত্তর স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রতন মালাকার।
আরও পড়ুন: যৌনতার ফাঁদে ফেলে প্রতিরক্ষা তথ্য হাতানোর অভিযোগ, কোয়েম্বাটুর থেকে গ্রেফতার নৌসেনাকর্মী
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গয়না কেনার আগে বিভিন্ন দোকানে ঘুরে পরিস্থিতি বুঝে নিতেন মধুরিমা। পরে ক্রেতা সেজে পছন্দের গয়না বেছে নিতেন। টাকা মেটানোর সময়ই শুরু হত আসল কারসাজি। মোবাইলে পেমেন্ট সফলের মেসেজ দেখানো হত, যাতে মনে হয় দোকানের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়ে গিয়েছে। সেই বার্তা দেখে গয়না দিয়ে দিতেন দোকানদার। পরে ব্যাঙ্কের লেনদেন পরীক্ষা করতেই দেখা যেত, অ্যাকাউন্টে এক টাকাও ঢোকেনি।
নরেন্দ্রপুরের কালীবাজারের একটি সোনার দোকান থেকেই প্রথম বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। দোকানের মালিক তারক কর্মকারের অভিযোগ, গয়না দেওয়ার পর টাকা না আসায় ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তখন তিনি জানান, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে গিয়েছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই দোকানের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। কিন্তু পরে ব্যাঙ্কের বিস্তারিত লেনদেন খতিয়ে দেখে বোঝা যায়, টাকা আদৌ জমা পড়েনি। এরপর থানায় অভিযোগ জানান দোকান মালিক এবং পুলিশকে সিসিটিভি ফুটেজও দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে অশান্তি, কোন্ননগরে যুগলের রহস্যমৃত্যু
এর মধ্যেই চৌহাটির একটি সোনার দোকানে গয়না কিনতে যান ওই মহিলা। সেখানে তাঁর কথাবার্তা ও টাকা দেওয়ার ধরন দেখে দোকানদারের সন্দেহ হয়। পুলিশে খবর দিয়ে তাঁকে দোকানেই আটকে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর পুলিশ গিয়ে তাঁকে আটক করে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় মধুরিমাকে। তাঁর কাছ থেকে সোনার গয়নাও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বাদুড়িয়া, খড়দহ, রাজারহাট-সহ আরও কয়েকটি এলাকার সোনার দোকানেও একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। ফলে একা মধুরিমাই এই কাজ করতেন, নাকি এর পিছনে আরও কেউ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুরো ঘটনার সঙ্গে কোনও বড় চক্র জড়িত কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে। ধৃতের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বর পাওয়া যায় এই মেলায়! ৭০০ বছরের ঐতিহ্য আজও বহমান বিহারে
এই ঘটনার পর সোনার ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছে ব্যবসায়ী সংগঠনও। সোনারপুর উত্তর স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রতন মালাকার জানিয়েছেন, মোবাইলে ‘পেমেন্ট সফল’ লেখা দেখেই কোনও ক্রেতার হাতে গয়না তুলে দেওয়া ঠিক নয়। দোকানের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সত্যিই টাকা ঢুকেছে কি না নিশ্চিত হওয়ার পরেই গয়না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।















