বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পাত্র বা পাত্রী খোঁজার জন্য বর্তমান যুগে ম্যাট্রিমনিয়াল সাইট বা ঘটকের সাহায্য নেওয়া খুব সাধারণ বিষয়। কিন্তু যদি শোনেন, এমন এক বাজার রয়েছে যেখানে হাটের মতো করেই পাত্র বিক্রি হয়! হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য মনে হলেও গত ৭০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের বিহারের মধুবনী জেলায় প্রতি বছর বসে এক অদ্ভুত বাজার, যা স্থানীয়ভাবে ‘সৌরথ সভা’ বা সাধারণ মানুষের কাছে ‘বরের মেলা’ নামে পরিচিত। 

আরও পড়ুন: বেথুয়াডহরিতে ‘ঘোষ মহাশয়ের হেঁসেল’: ফার্ম হাউজের অর্গানিক খাবার থেকে অত্যাধুনিক পরিষেবা নিয়ে হাজির নিপবীথি

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় ৭০০ বছর আগে কর্ণাটক বংশের রাজা হরি সিং দেব এই প্রথার সূচনা করেছিলেন। মূলত যৌতুক প্রথা বন্ধ করতে এবং বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে স্বচ্ছতা আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই মেলায় মূলত মৈথিলী ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের অবিবাহিত পুরুষেরা সম্ভাব্য পাত্র হিসেবে অংশ নিয়ে থাকেন। মেলাটি একটানা সাত দিন ধরে চলে।

আরও পড়ুন: খারাপ চুমুর তকমা! ২০ বছর কথা বন্ধ ইমরান-মল্লিকার

পাত্রেরা সুন্দর পোশাক পরে মেলায় এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। অনেক পাত্র আবার নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোষ্ঠী এবং পদের বিবরণ সম্বলিত কাগজ গলায় ঝুলিয়ে রাখেন। কনে ও কনের বাড়ির লোকজন সেই যোগ্যতা অনুযায়ী পাত্রদের যাচাই বা পরখ করেন। পাত্রের যোগ্যতা ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর ভিত্তি করে শুরু হয় দামদর। সাধারণত ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এই দর ৩ লক্ষ টাকা বা তার বেশি পর্যন্ত পৌঁছায়।

আরও পড়ুন: খুনির সাজা মকুবের আর্জি খোদ মৃতের! চোখে জল নিয়েও নতুন করে সাজা ঘোষণা বিচারপতির

পাত্র-পাত্রী পছন্দ হওয়ার পর দু’পক্ষের অভিভাবকরা সামাজিক প্রথা মেনে বিয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটির হিসাব রাখার জন্য মেলায় উপস্থিত থাকেন বিশেষ রেজিস্ট্রার বা পঞ্জিকর, যাঁরা সমস্ত কোষ্ঠী ও বংশলতিকা খতিয়ে দেখে বিয়ের ছাড়পত্র দেন।

আধুনিক যুগে এই মেলা নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হলেও এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রথা মেনে চলার আগ্রহ তেমন একটা দেখা না গেলেও ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধনে বিহারের এই ‘বরের মেলা’ আজও এক অনন্য আকর্ষণ ধরে রেখেছে।