২০০৪ সালে অনুরাগ বসুর থ্রিলার ছবি ‘মার্ডার’(Murder)-এ এই জুটির রসায়ন কাঁপিয়ে দিয়েছিল রুপোলি পর্দা। পর্দায় ইমরান-মল্লিকার মুহুর্মুহু চুমু আর ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দেখে দর্শকদের ঘাম ছুটে যাওয়ার জোগাড়। তাঁদের অন্তরঙ্গ দৃশ্যে দর্শক কাহিল। ছবিটি বক্স অফিসেও সফল। কিন্তু পরবর্তী সময় দু’জনের মধ্যে কিছু মন্তব্য ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়, যা তাঁদের সম্পর্ককে তিক্ত করে তোলে। যার জেরে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একে অপরের সঙ্গে মুখ দেখাদেখি এবং কথা বলা বন্ধ রেখেছিলেন এই অন-স্ক্রিন হট কাপল!

আরও পড়ুন: খুনির সাজা মকুবের আর্জি খোদ মৃতের! চোখে জল নিয়েও নতুন করে সাজা ঘোষণা বিচারপতির

সম্প্রতি ‘আওয়ারাপন ২’ (Awarapan 2)-এর হাত ধরে প্রায় দুই দশক পর আবারও চর্চায় ইমরান হাশমি। তাঁদের সেই পুরনো কাসুন্দি আবারও টলিপাড়ার চায়ের কাপে ঝড় তুলেছে। কিন্তু ঠিক কী কারণে ভালো চুমু না খাওয়ার ‘অভিমান’ ছাপিয়ে কুড়ি বছর ধরে চলল এই মৌনব্রত?

লড়াইয়ের বারুদে আসল আগুনটা লেগেছিল করণ জোহরের জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’-এ। সেখানে র‍্যাপিড ফায়ার রাউন্ডে ইমরান হাশমিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—তাঁর জীবনের ‘সেরা’ এবং ‘সবচেয়ে খারাপ’ অন-স্ক্রিন কিসার কে? ‘সিরিয়াল কিসার’ একটুও না ভেবে সেরা তকমা দেন জ্যাকলিন ফার্নান্দেজকে এবং মল্লিকা শেরাওয়াতকে সটান ‘সবচেয়ে খারাপ কিসার’ (Worst Kisser) বলে বসেন! শুধু তাই নয়, মল্লিকার বেডরুমে কী পাওয়া যেতে পারে—এই প্রশ্নে ইমরান খোঁচা মেরে বলেছিলেন, “হলিউডে সফল হওয়ার বোকাদের নির্দেশিকা বই”। ব্যস, এই মন্তব্য সজোরে আঘাত করে মল্লিকার অহং-এ।

আরও পড়ুন: মহিলা সাংবাদিকদের হেনস্থার অভিযোগে উত্তাল দিল্লি, থানার সামনে CJP-র বিক্ষোভ

মল্লিকা শেরাওয়াতও ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নন। ইমরানের এই মন্তব্যের পর তিনিও এক সাক্ষাৎকারে মোক্ষম জবাব ফিরিয়ে দেন। মল্লিকা তাঁর ‘হিস’ (Hisss) সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, “ইমরান হাশমির চেয়ে তো ওই সিনেমার সাপটাকে চুমু খাওয়াও অনেক ভালো ছিল!” দুই তারকার এই কাদা ছোড়াছুড়ি প্রকাশ্য ইগোর লড়াইয়ে রূপ নেয় এবং তাঁদের পেশাগত সম্পর্কে চিরতরে চিড় ধরে।

আরও পড়ুন: 'লাভ জিহাদ'-'ল্যান্ড জিহাদ' রুখতে ৬ মাসের মধ্যেই রাজ্যে UCC: ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

২০ বছর পর এই ঝগড়ার আসল রহস্য ফাঁস করতে গিয়ে মল্লিকা ও ইমরান দুজনেই স্বীকার করেছেন যে, তখন তাঁদের বয়স ছিল কম আর ইগো ছিল আকাশচুম্বী। মল্লিকার কথায়, “আমরা দুজনেই তখন খুব অল্পবয়সী ও অবুঝ ছিলাম। তার ওপর ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষ আমাদের কান ভারী করতে ব্যস্ত ছিল। অন্যের উসকানিতেই আমাদের ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে”। ইমরানও সহমত পোষণ করে জানান, অল্প বয়সের হঠকারিতার কারণেই তাঁরা একে অপরের উদ্দেশ্যে অমন কড়া মন্তব্য করে বসেছিলেন, যা আদতে অত্যন্ত বোকা বোকা ছিল।

আরও পড়ুন: ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-কে দরাজ সার্টিফিকেট শাহেনশাহের! আপ্লুত সৃজিত

২০ বছর ধরে চলা এই দীর্ঘ ‘অভিমান’ এবং তিক্ততার অবসান ঘটে প্রযোজক আনন্দ পণ্ডিতের মেয়ের বিয়ের রিসেপশন পার্টিতে। সেখানে মুখোমুখি হতেই সমস্ত পুরনো রাগ ভুলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন ইমরান ও মল্লিকা। পাপারাৎজিদের সামনে হাসিমুখে পোজও দেন।

অতীতের সব তিক্ততাকে ভুলে ইমরান এখন মল্লিকাকে একজন ‘অসাধারণ মানুষ ও ভদ্রমহিলা’ বলে মনে করেন এবং জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে মল্লিকার সঙ্গে আবারও স্ক্রিন শেয়ার করতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। টালবাহানা যাই হোক না কেন, কুড়ি বছর পর ‘মার্ডার’ জুটির এই প্যাচ-আপে বলিউডের অনুগামীরা কিন্তু বেশ খুশি।