হিন্দু (Hindu) ধর্ম ও সংস্কৃতির উপর কোনও আঘাত বরদাস্ত করা হবে না। রবিবার আলিপুরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (Vishva Hindu Parishad) অনুষ্ঠান থেকে সেই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা অবস্থায় কোনও সাধু-সন্তের অপমান তিনি মেনে নেবেন না। একইসঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অতীতে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে বিগত সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। 'লাভ জিহাদ' (Love Jihad) ও 'ল্যান্ড জিহাদ' রুখতে মাত্র ছ’মাসের মধ্যে কঠোর আইন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) চালুর পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তাঁর কথায়, ধর্ম ও সংস্কৃতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হলেও সমস্ত কাজই সংবিধানের বিধি মেনেই করা হবে।

আরও পড়ুন: খুনির সাজা মকুবের আর্জি খোদ মৃতের! চোখে জল নিয়েও নতুন করে সাজা ঘোষণা বিচারপতির

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ও হরগোবিন্দ দাস হত্যাকাণ্ডের উল্লেখের পাশাপাশি মোথাবাড়িতে হিন্দুদের বাড়িতে লুঠপাট এবং ডালখোলায় রামনবমীর মিছিলে হামলার অভিযোগ নিয়েও এদিন সরব হন তিনি। ঘটনাগুলিকে সামনে রেখে আগের সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, হিন্দু ধর্মকে যারা অপমান করেছে, সময়ের নিয়মে তাদের বিদায় হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘তারিখ পে তারিখ’ নয়, নয়া ফৌজদারি আইনে ৩ বছরের মধ্যেই বিচার: দাবি শাহের

শুধু বক্তব্যেই নয়, ধর্মীয় পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও এদিন একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু তীর্থক্ষেত্রগুলিকে ঘিরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার সার্কিট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তীর্থস্থানগুলির উন্নয়ন এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, দু'দিকেই গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পিতৃপক্ষ চলাকালীন কোনও দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করা হবে না। ইডেনে মহালয়ার অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বলেও জানান তিনি। অষ্টমীর দিন সুরাপানের উপর নিষেধাজ্ঞার কথাও এদিন উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, আগামী গঙ্গাসাগর মেলাকেও আন্তর্জাতিক মানের করে তোলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।