ভারতের বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ওঠে। কোনও মামলা নিষ্পত্তি হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায় এমন অভিযোগও কম নয়। সেই পরিস্থিতি এবার বদল হতে চলেছে। এমনটাই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর বক্তব্য, “নতুন ফৌজদারি আইন (Criminal Laws) পুরোপুরি কার্যকর হলে এফআইআর (FIR) দায়ের থেকে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) পর্যন্ত একটি ফৌজদারি মামলা তিন বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।”

আরও পড়ুন: "জঙ্গলরাজের সংস্কৃতি চলতে পারে না": আইনজীবী শামীমের উপর হামলায় সরব মমতা

শনিবার মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ভোপালে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে কথা বলেন শাহ। তাঁর কথায়, “ নতুন ফৌজদারি আইন পুরোপুরি কার্যকর হলে এফআইআর দায়েরের পর থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ৩ বছরের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।দেশের বিচারব্যবস্থাকে একসময় ‘তারিখ পে তারিখ’-এর জন্য কটাক্ষ করা হত। নতুন ফৌজদারি আইন সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনবে আনা হবে। আইনগুলি সম্পূর্ণ ভাবে কার্যকর হলে ভারতের ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ব্যবস্থায় পরিণত হবে।” সেইসঙ্গে নতুন আইনের পাশাপাশি মাদক পাচার এবং মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের উপরেও জোর দেওয়ার কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মাদক ব্যবসার রমরমা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যে আগামীদিনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ বিরোধিতায় পাশাপাশি রাজ-উদ্ধব, বিক্ষোভে উত্তাল মুম্বই

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে দেশে কার্যকর হয়েছে তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন—ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম। এই তিন আইন যথাক্রমে ভারতীয় দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের পরিবর্তে কার্যকর হয়েছে। শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন আইনে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফরেনসিক তদন্তের পরিধি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। মহিলাদের নিরাপত্তা, গণপিটুনিতে মৃত্যু, নিখোঁজ শিশু এবং সন্ত্রাসবাদী হামলার মতো অপরাধের ক্ষেত্রেও নতুন আইনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন ফৌজদারি আইনের দর্শন নিয়েও এ দিন ব্যাখ্যা দেন শাহ।

তাঁর বক্তব্য, “আইনগুলির মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং নাগরিককে দ্রুত ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়া।” তবে অপরাধ দমনে প্রয়োজন অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ব্রিটিশ আমলে তৈরি পুরনো ফৌজদারি আইনগুলির মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন শাসনব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখা। নতুন আইনগুলি সেই কাঠামো বদলে নাগরিকের সম্মান, অধিকার ও সম্পত্তি সুরক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আর সেই পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্যই হল দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।