ইন্ডিয়া জোটে (INDIA) থলপতি বিজয়ের দল। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে জ্ঞানেশ ইস্তফার দাবিতে এবার ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে হাত মেলাল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম বা টিভিকে (TVK)। চেন্নাইয়ে (Chennai) ইন্ডিয়া জোটের তামিলনাড়ু শাখার বৈঠকে যোগ দেন টিভিকে-র দুই শীর্ষ নেতা আদভ অর্জুন ও মারিয়া উইলসন। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলনেও যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজয়ের দল (Thalapathy Vijay Party)।

আরও পড়ুন: মহিলা সাংবাদিকদের হেনস্থার অভিযোগে উত্তাল দিল্লি, থানার সামনে CJP-র বিক্ষোভ

বৈঠকের পর তামিলনাড়ু কংগ্রেস সভাপতি বি মণিকম টেগোরে টিভিকে-র (Manickam Tagore) যোগদানকে ‘ঐতিহাসিক দিন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বিজয়ের দলের অন্তর্ভুক্তিতে তামিলনাড়ুতে ইন্ডিয়া জোট আরও শক্তিশালী হবে। আরএসএস-বিজেপি, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিরোধীদের লড়াই আরও শক্তিশালী হবে।" শনিবারের বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে আলোচনা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। সেই কর্মসূচিতে এ বার টিভিকে-ও অংশ নেবে।

এ দিনের বৈঠকে কংগ্রেস, টিভিকে-র পাশাপাশি বাম দল এবং ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য শরিকদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। ভোটার তালিকা, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং আগামী দিনের আন্দোলন নিয়ে তারা আলোচনা করেন। আগামী ১৩ ও ১৪ অক্টোবর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ এবং ১৫ অক্টোবর চেন্নাইয়ে বড় কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছে জোটের নেতারা। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। টিভিকে জোটে যোগ দিলেও ৬ অক্টোবরের কমিশন অভিযান কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা এখনও ঘোষণা করেননি।

আরও পড়ুন: 'লাভ জিহাদ'-'ল্যান্ড জিহাদ' রুখতে ৬ মাসের মধ্যেই রাজ্যে UCC: ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, জোটের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলিকেও ভবিষ্যতের কর্মসূচিতে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করা হবে। সেই পর্বেই তামিলনাড়ুতে বিজয়ের টিভিকে-র সঙ্গে সমন্বয় তৈরি হল। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই সমীকরণ তৈরি হওয়ার পিছনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। ডিএমকে-র সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্কে ছিঁড় ধরছে। অন্য দিকে, বিজয়ের টিভিকে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছে। ফলে কংগ্রেসের সঙ্গে টিভিকে-র এই সমন্বয় আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।