তিন মহিলা সাংবাদিকের যৌন হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে উত্তাল রাজধানী। পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার (Parliament Street Police Station) সামনে অবস্থানে বসেছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দলের নেতা সৌরভ দাসের (Sourav Das) অভিযোগ, অভিযোগকারী এক সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা করতেও নারাজ পুলিশ। ঘটনাকে ‘গুরুতর’ বলে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি তুলেছে প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়াও (Press Council of India)। ফলে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবার পুলিশের ভূমিকা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কে গড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: লোকভবনে ‘ক্যালকাটা কিলিং’ নিয়ে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা! বিভাজন নয়, সম্প্রীতির বার্তা দিন: সরব কুণাল

অভিযোগের সূত্রপাত ৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে হওয়া বিক্ষোভকে ঘিরে। সেখানে উপস্থিত থাকা এক মহিলা সাংবাদিকের দাবি, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করছিল, অথচ ঘটনাস্থলে কোনও মহিলা পুলিশকর্মী ছিলেন না। কেন মহিলা পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি, তা জানতে তিনি ACP বিবেক ভগতের কাছে যান। সাংবাদিকের অভিযোগ, প্রশ্ন করার পরই ওই পুলিশ আধিকারিক তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন, যৌন হেনস্থা করেন এবং তাঁকে পিছনে ঠেলে দেন।

ঘটনার পর অভিযোগ জানাতে থানায় যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন ওই সাংবাদিক। তাঁর দাবি, তিনি এবং আরও কয়েকজন মিলে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়েরের চেষ্টা করেন। কিন্তু তখনও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দিল্লি পুলিশ জানায়, ওই দিনের ঘটনার প্রেক্ষিতে তিন মহিলা সাংবাদিক পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছেন। নিউ দিল্লি জেলা পুলিশের কাছে তাঁদের অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই থানার সামনে বিক্ষোভে নামে CJP। দলের বক্তব্য, অভিযোগকারী সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে পুলিশের অনীহা আরও প্রশ্ন তৈরি করছে। সৌরভ দাসের দাবি, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে দলের তরফে পুলিশি ধরপাকড় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন কয়েকজনকে আটক করে তাঁদের আন্দোলনের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ CJP-র।

আরও পড়ুন: "প্যাথলজিক্যাল গদ্দার"! ভারতের সঙ্গে ম্যাচে ব্রাজিলের জার্সি পরে গ্যালারিতে ঋতব্রত, চরম খোঁচা কুণালের

এখানেই শেষ নয়। CJP-র তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, আটক এক ব্যক্তিকে পুলিশ মারধর করেছে এবং গ্রেফতারের পর তিনি কর্মসংস্থানও হারিয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির কোনওটিরই স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুলিশি তদন্তের ফলাফল এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পুলিশের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। অন্যদিকে জন্তর মন্তরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাব চেয়েছেন। উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবং ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর প্রতিবাদে হওয়া ওই বিক্ষোভে পুলিশ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে। ঘটনায় অন্তত তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে।