উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন (Uttar Pradesh Assembly Election) যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রকাশ্যে আসছে সমাজবাদী পার্টি (Samajwadi Party) ও কংগ্রেসের (Congress) জোটের অঙ্ক নিয়ে মতপার্থক্য। আনুষ্ঠানিক ভাবে আসন-রফার আলোচনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তারআগেই দুই দলের নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ। কংগ্রেসের উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম জানিয়েছেন, “জোট হলে ৪০৩ আসনের মধ্যে অন্তত ১৫০টি আসনে লড়তে চায় কংগ্রেস।” সেই দাবিকেই কার্যত খারিজ করে দিলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ শিব পাল সিং প্যাটেল। তাঁর বক্তব্য, “কংগ্রেসের সাংগঠনিক ও নির্বাচনী শক্তির অনুপাতে আসন দাবি করা উচিত। উত্তরপ্রদেশে ৫০টি ছাড়া বেশি আসন ছাড়া যাবে না।”
আরও পড়ুন: পঞ্জাবে গুলি করে খুন LGBTQ+র প্রতিনিধি ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধু, স্যোশাল মিডিয়ায় দায় স্বীকার
শিব পাল সিং প্যাটেলের কথায়, “১৫০টি আসন ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না। ৫০টি আসন দিলেও তা কংগ্রেসের জন্য বেশি হয়ে যাবে।” এই প্রসঙ্গে ২০২২ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ফলের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। ওই নির্বাচনে ৪০৩টি আসনের মধ্যে ৩৯৯টিতে প্রার্থী দিয়ে মাত্র দু’টি আসনে জিতেছিল কংগ্রেস। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টি জিতেছিল ১১১টি আসনে। অন্যদিকে কংগ্রেসের পাল্টা যুক্তি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে জোট করে লড়াইয়ের পর দলের ফল আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। ৮০টি লোকসভা আসনের মধ্যে সমাজবাদী পার্টি ৩৭টি এবং কংগ্রেস ৬টি আসনে জয় পেয়েছিল। কংগ্রেস ১৭টি আসনে লড়েছিল।
তবে এই ফলের ব্যাখ্যাতেই দুই শরিকের মধ্যে মতপার্থক্য সামনে আসছে। শিব পাল সিংয়ের বক্তব্য, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোটের কারণেই কংগ্রেস ওই ছ’টি আসনে সাফল্য পেয়েছে। সেই যুক্তি দেখিয়েই কংগ্রেসের বর্তমান আসন দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এর আগে কংগ্রেসের উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম জানিয়েছিলেন, “জোট বেঁধে লড়াই হলে কংগ্রেস অন্তত ১৫০টি আসনে প্রার্থী দিতে চায়। অক্টোবরের মধ্যেই আসন-রফা চূড়ান্ত হবে। প্রয়োজন হলে উত্তরপ্রদেশের ৪০৩টি আসনেই লড়াই করার জন্য কংগ্রেস প্রস্তুত।”
এদিকে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া জোটের (INDIA) বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন না অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)। তাঁর বদলে সমাজবাদী পার্টির প্রতিনিধিরা বৈঠকে যোগ দেন। দলের তরফে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যস্ততার কথা জানানো হয়েছিল। এই আবহে সামনে এল উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস এবং সপার মধ্যে আসন রফা নিয়ে বিতর্ক।















