যৌনতার ফাঁদে ফেলে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। এক নৌসেনাকর্মীকে গ্রেফতার করল অন্ধ্রপ্রদেশ (Andhra Pradesh) পুলিশের (Police) কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (CI)। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর থেকে অভিযুক্ত প্রদীপ মুখোপাধ্যায়কে (Pradip Mukharjee) গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত নৌসেনাকর্মীকে একটি হানিট্র্যাপের মাধ্যমে ফাঁসানো হয়েছিল। এরপর তাঁর থেকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসায় তদন্তে নামে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে অভিযুক্তের সঙ্গে এক মহিলার পরিচয় তৈরি হয়েছিল। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর ব্যক্তিগত কথোপকথন ও যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, অভিযুক্ত কী ধরনের তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন এবং সেই তথ্য আদৌ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, এই হানিট্র্যাপের পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র বা বিদেশি যোগ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অভিযুক্ত নৌসেনাকর্মীর সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিল, কীভাবে যোগাযোগ হয়েছিল এবং সেই যোগাযোগের মাধ্যমে কোনও গোপন নথি, ছবি বা অন্যান্য তথ্য আদানপ্রদান হয়েছিল কি না—তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। তাঁর মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কোয়েম্বাটুরের রেড ফিল্ডসে আইএনএস অগ্রণী-তে ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্সের প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন তিনি। জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ফলে তদন্তকারীরা বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তদন্ত এগোলেই তা স্পষ্ট হবে। ঠিক কী ধরনের তথ্য পাচার হয়েছে, কতদিন ধরে এই যোগাযোগ চলছিল এবং এর বিনিময়ে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ২০১৪ সালে প্রদীপ নৌসেনার সোলজার পদে যোগ দিয়েছিলেন।















