কেদারনাথ যাত্রায় এবার অন্য ছবি। দর্শন সেরে পাহাড় থেকে নামার সময় সঙ্গে করে পুণ্যার্থীরা নিয়ে ফিরছেন প্লাস্টিকের বস্তা! পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে পুণ্যার্থীদের হাতেই শুরু হয়েছে অভিনব স্বচ্ছতা অভিযান। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে গত জুনে শুরু হয়েছিল ‘ক্যারি মি ব্যাক’ অভিযান। লক্ষ্য ছিল, কেদারনাথের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে শুকনো বর্জ্য নামিয়ে এনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপ কিছুটা কমানো। সেই উদ্যোগেই সাড়া দিয়েছেন প্রায় ৫,০০০ পুণ্যার্থী। গত চার মাসে তাঁদের হাত ধরে কেদারনাথ থেকে গৌরীকুণ্ডে নামিয়ে আনা হয়েছে ১২ টনেরও বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১,৭৫৫ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কেদারনাথ। গৌরীকুণ্ড থেকে মন্দির পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার দুর্গম পথ পেরোতে হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীর কারণে এই এলাকায় বর্জ্য সংগ্রহ ও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই সমস্যার মোকাবিলায় এবার প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন পুণ্যার্থীরাই। তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং ওড়িশা থেকে আসা বহু তীর্থযাত্রীকে কাঁধে বা হাতে প্লাস্টিক ভর্তি ব্যাগ নিয়ে পাহাড়ি পথে নামতে দেখা গিয়েছে। কেউ আবার সাইকেলেও বর্জ্য নামিয়েছেন। এই উদ্যোগে গুরুগ্রামের এক মহিলা দুই বন্ধুর সঙ্গে প্রায় ৮ কেজি বর্জ্য পাহাড় থেকে নিচে নিয়ে আসেন। তাঁর বক্তব্য, কেদারনাথে পৌঁছনোটাই তাঁদের কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা, আর সেই জায়গাকে পরিষ্কার রাখার কাজে অংশ নিতে পেরে তিনি আলাদা এক ধরনের আনন্দ অনুভব করেছেন। তবে কেদারনাথের বর্জ্য সমস্যা যে এখনও বড়, তার ছবিও সামনে এসেছে। চলতি বছর এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে কেদারনাথে ৫০.৩ মেট্রিক টন বর্জ্য তৈরি হয়েছে বলে RTI-র মাধ্যমে পাওয়া তথ্য জানাচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ টন ছিল প্লাস্টিক বর্জ্য। 

অর্থাৎ, ‘ক্যারি মি ব্যাক’ উদ্যোগে ১২ টনের বেশি প্লাস্টিক নামিয়ে আনা নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য। কিন্তু হিমালয়ের এই পরিবেশ-সংবেদনশীল তীর্থক্ষেত্রকে দীর্ঘমেয়াদে পরিষ্কার রাখতে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের সচেতন অংশগ্রহণও।