সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (SRFTI) ২৭ সেপ্টেম্বর অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের একটি অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই আরেক রবিবারে (৪ অক্টোবর) SRFTI দখলের জন্য পথে নামে বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। আর তাতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল SRFTI চত্বর। অজয়নগর থেকে আসা মিছিল প্রতিষ্ঠানটির সামনে পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করলেও তা কার্যত ভেঙে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ গেটের দিকে এগিয়ে গেলে শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। গেট ধরে টানাটানি, ভিতরে ঢোকার চেষ্টা এবং বোতল ছোড়ার অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
কেন এই প্রতিবাদ, তার ব্যাখ্যায় আন্দোলনকারীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে আগের দিনের ঘটনার প্রসঙ্গ। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, “আগের দিন ভারতমাতার বুকে এই বামপন্থী, অতি বাম, দেশদ্রোহীরা লাঠি মেরেছে। শুধু ভারতমাতা নয়, বিবেকানন্দের বুকে লাথি মেরেছে। আজ আমাদের পদক্ষেপ, আমরা রাষ্ট্রবাদীরা বুঝিয়ে দিলাম আমাদের শক্তিটা কতটা। এটা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ।” তাঁর বক্তব্য, এই ক্ষোভ থেকেই এদিনের জমায়েত এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি।
তবে বিক্ষোভের দায় সংগঠনের উপর সরাসরি চাপানো নিয়েও আপত্তি রয়েছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের। সংগঠনের এক ‘কার্যকর্তা’ বলেন, “আমাদের আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। সাধারণ মানুষ ভারত মাতার অপমানের প্রতিশোধ নিচ্ছে। এতে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কোনও দায় নেই।” তাঁর আরও দাবি, “আমরা হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কার্যকর্তা। স্বতঃস্ফূর্ত, নিরস্ত্র আন্দোলনে সংবিধান মেনে আন্দোলন করতে এসেছি।” অর্থাৎ সংগঠনের দাবি, এটি কোনও পূর্বপরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ। তবে শুধু বোতল নয় এই পরিস্থিতির মধ্যে পাথর এবং ঢিল ছোড়াছুড়িও চলতে থাকে। পাল্টা পড়ুয়াদের অভিযোগ, গেটে টাঙানো অম্বেডকরের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়।
এদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনে থাকা ব্যক্তিরা। এক বিক্ষোভকারীর অভিযোগ, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বদলে তাঁদের উপরেই বলপ্রয়োগ করেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই সব পুলিশ সাসপেন্ড হবে। পুলিশ অতি সক্রিয়। পুলিশ উল্টে আমাদের মারছে। ২৪ ঘণ্টার ভিতরে সব সাসপেন্ড হবে।” পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভস্থলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।















