মাঝে আর মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা। রবিবারের বিকেলে প্রচারের মাইক স্তব্ধ হতেই রেজিনগর উপনির্বাচনের আঙিনায় শুরু হয়ে গিয়েছে নিঃশব্দ রণকৌশল সাজানোর পালা। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ। আর এই অন্তিম পর্বে একদিকে যেমন তৃণমূলের ভূমিপুত্র প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরি নিজের জয়ে একশো শতাংশ আশাবাদী, তেমনই অন্য দিকে বহিরাগতদের জমায়েত ও কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনের নজরদারি চাইল রাজ্যের শাসকদল।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই রেজিনগর কেন্দ্র থেকেই তৃণমূলের প্রতীকে জিতেছিলেন রবিউল। ফলে তাঁর পরিচিতি এবং জনভিত্তিকে ভর করেই ফের এই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। রবিবারের প্রচারের শেষলগ্নে সমাজমাধ্যমে এক ভিডিয়ো বার্তায় ভোটারদের কাছে আবেদন জানান তিনি। দলীয় প্রতীক তুলে ধরে তাঁর বক্তব্য, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন বজায় রাখতে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করতে রেজিনগরের আপামর মানুষ যেন তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন। গত দু’সপ্তাহ ধরে টানা পথসভা, জনসংযোগ এবং রোড-শোয়ে সাধারণ মানুষের যে সাড়া মিলেছে, তাতেই জয়ের রসদ খুঁজে পাচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী।
অন্য দিকে, প্রচার পর্ব শেষ হতেই ভোট পরিচালনার নিরপেক্ষতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের স্পষ্ট অভিযোগ, জনসমর্থন হারিয়ে বিজেপি এখন নির্বাচনে অসাধু উপায় অবলম্বন করতে পারে। ভোটে প্রভাব খাটাতে বহিরাগতদের এনে অশান্তি বাধানোর চেষ্টা হতে পারে বলেও তাঁর আশঙ্কা। সেই কারণে রেজিনগর সীমানায় কড়া নাকা তল্লাশি এবং হোটেল বা লজগুলিতে নজরদারি চালানোর দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কুণালের দাবি, রবিউলের জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা, তবে ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনকে পুরোপুরি পক্ষপাতহীন ভূমিকা পালন করতে হবে যাতে কোনও রকম রিগিং বা কারচুপি না হয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বলছে, ২০২৬-এর সাধারণ নির্বাচনে এই আসনে জিতেছিলেন হুমায়ুন কবীর। একই সঙ্গে ভরতপুর আসন থেকেও তিনি জয়ী হওয়ায় সাংবিধানিক নিয়ম মেনে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিতে হয় তাঁকে। সেই শূন্য আসনেই হতে চলেছে এই হাইভোল্টেজ উপনির্বাচন। দলীয় নেত্রীর আস্থায় ভর করে ময়দানে নামা রবিউলের হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। প্রচারের ভিড় দেখে শাসকদলের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকলেও, মঙ্গলবার বুথমুখী মানুষের রায় কোন দিকে যায়, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।















