বক্সায় বাঘ ফেরানোর উদ্যোগ ঘিরে ফের পর্যটনে কোপ। বাঘিনীকে ঘিরে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত সতর্কতার কারণে আরও ছ’দিন পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকছে বক্সা টাইগার রিজার্ভ। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত জঙ্গলে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বন্ধ থাকবে জিপসি সাফারি, ডে-ভিজিট এবং বনাঞ্চলের ভিতরে পর্যটকদের রাত্রিবাসও। বনদফতর সূত্রে খবর, বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে আনা বাঘিনী এখনও বক্সার ২৫ মাইল এলাকায় তৈরি প্রায় সাত বিঘা আয়তনের বিশেষ এনক্লোজারে রয়েছে। বাঘিনী যাতে কোনওরকম চাপ বা অসুবিধার মধ্যে না পড়ে, সেজন্যই জঙ্গলে মানুষের প্রবেশ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। পর্যটকদের সাফারি ও আনাগোনায় অতিরিক্ত শব্দ বা কোলাহল তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বাঘিনির নিরাপত্তা ছাড়াও পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে বনদফতর, এমনটাই বলা হয়েছে।
এর আগে বাঘিনী আনার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের জন্য পর্যটন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমাই এবার বাড়িয়ে ৯ অক্টোবর করা হল। অর্থাৎ পুজোর মরশুমে বক্সায় পর্যটনের উপর ফের অনিশ্চয়তার ছায়া। তবে বনদফতরের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বক্সা টাইগার রিজার্ভের বনবস্তির বাসিন্দারা। জঙ্গলের সঙ্গে পর্যটনই যাঁদের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস, তাঁদের আশঙ্কা—বারবার পর্যটন বন্ধ হলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। জয়ন্তীর বাসিন্দাদের অভিযোগ, এমনিতেই জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিয়মিতভাবে বনাঞ্চল বন্ধ থাকে। তারপর জঙ্গল খোলার সময়ও যদি পর্যটন বন্ধ রাখা হয়, তাহলে স্থানীয় ব্যবসা, গাড়ি চালানো এবং পর্যটননির্ভর জীবিকায় বড় ধাক্কা লাগে। বিশেষ করে জিপসি চালকদের সমস্যা আরও প্রকট। বনদফতরের নিয়ম মেনে নতুন গাড়ি কিনে বহু চালক এখন মাসে হাজার হাজার টাকা কিস্তি দিচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় সাফারি বন্ধ থাকায় তাঁদের আয় কার্যত বন্ধ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, কয়েকজন গাড়ির চাবি বনদফতরের কাছে জমা দেওয়ার কথাও ভাবছেন।
উল্লেখ্য, একসময় বক্সা ছিল বাঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। ১৯৮২ সালে দেশের ১৫তম টাইগার রিজার্ভ হিসেবে স্বীকৃতি পায় বক্সা যার আয়তন প্রায় ৭৬০ বর্গকিলোমিটার। একসময় এখানে ২০টিরও বেশি বাঘ থাকার রেকর্ড ছিল। পরবর্তীকালে বক্সা কার্যত বাঘশূন্য হয়ে যায়। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভুটান থেকে বাঘের যাতায়াত ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। সেই হারানো গৌরব ফেরাতেই বাইরে থেকে বাঘ এনে বক্সায় স্থায়ীভাবে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে বিহার থেকে বাঘিনী এনে বক্সায় রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বাঘ এনে বক্সা টাইগার রিজার্ভে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে বাঘকে কেন্দ্র করে টাইগার ট্যুরিজমের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ, একদিকে বক্সার জঙ্গলে ফিরছে বাঘের সম্ভাবনা, অন্যদিকে সেই বাঘকে নিরাপদে নতুন পরিবেশে মানিয়ে দেওয়ার জন্য আপাতত থমকে রয়েছে পর্যটন। প্রশ্ন একটাই—বাঘের প্রত্যাবর্তনের এই অপেক্ষায় স্থানীয় পর্যটন-নির্ভর মানুষকে আর কতটা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।















