লোকভবনের (Lok Bhavan) প্রস্তাবিত রাজ্যস্তরের প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় ইতিহাসের দুটি বিতর্কিত অধ্যায়কে বিষয় হিসেবে বেছে নেওয়া নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Trinamool MLA Kunal Ghosh)। তাঁর প্রশ্ন, অতীতের কোনও তিক্ত বা বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামনে রেখে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে বিভাজনের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হবে, নাকি সংবিধানের মূল চেতনা ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, পরধর্ম সহিষ্ণুতা ও প্রগতিশীল চিন্তাভাবনাকে সামনে রেখে পড়ুয়াদের ভাবনার জগৎ তৈরি করা হবে? লোকভবনের এই বিষয় নির্বাচন সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি।
স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়ে রাজ্যস্তরের এই প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে পশ্চিমবঙ্গের লোকভবন। স্কুলস্তরের পড়ুয়াদের জন্য বিষয় রাখা হয়েছে ‘১৯৪৬ সালের কলকাতা গণহত্যাযজ্ঞ: কারণ ও ফলাফলসমূহ’। দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা এই বিভাগে অংশ নিতে পারবেন। অন্যদিকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগের প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস- ভারতের চিরায়ত সভ্যতার ভিত্তির উপর এক মারাত্মক আক্রমণ’। এই দুই বিষয় নির্বাচন নিয়েই আপত্তি তুলেছেন কুণাল ঘোষ।
বিধায়কের বক্তব্য, অতীতে কোনও খারাপ ঘটনা ঘটে থাকলে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু সেই ঘটনাকে সামনে রেখে বর্তমানেও ভেদাভেদ জিইয়ে রাখার চেষ্টা করা উচিত নয়। তাঁর মতে, অতীতের তিক্ততা অতিক্রম করে সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়াই হওয়া উচিত। দেশের সংবিধান যে মূল্যবোধগুলিকে সামনে রাখে, সেই মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরার উপরই জোর দেন তিনি।
লোক ভবনের বিষয় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুণাল বলেন, সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে, নাকি অতীতের কোনও বিচ্ছিন্ন ও কুৎসিত ঘটনাকে সামনে রেখে আজও বিভাজনের চেষ্টা করা হবে? তাঁর অভিযোগ, এই ক্ষেত্রে লোক ভবন তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। তাঁর মতে, পড়ুয়াদের মধ্যে সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা গড়ে তুলতে পারে এমন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
লোক ভবনের এই প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্কুল এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় দুই বিভাগে পৃথকভাবে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।















