উপনির্বাচনের প্রচারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দিনরাত এক করছেন। বঙ্গ রাজনীতিতে এই চিত্র কার্যত বিরল। তবে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে (Nandigram Bypoll) সেই চিত্রই দেখল গোটা বাংলা। রবিবার প্রচারের শেষ দিন ছিল। আর সেই শেষ দিনে প্রচারে ঝড় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এদিন সকাল থেকেই প্রার্থী হাসিরানি রথের (Hasi Rani Rath) হয়ে রাস্তায় নামেন শুভেন্দু। নিজের জেতা আসনের আত্মতুষ্টিতে না ভুগে মানুষের মধ্যে মিশে যেতেই ময়দানে নেমেছেন তিনি, এমনটাই জানান মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেও বিশেষ নজর দিয়ে সংখ্যালঘু ভোট বিজেপির দিকে টানার উদ্যোগ নিয়েছেন শুভেন্দু। বিভিন্ন সভা ও পদযাত্রা থেকে সংখ্যালঘু সমাজের উদ্দেশে সেই বার্তাই দিয়েছেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এদিনের পদযাত্রায় হাজারের বেশি সংখ্যালঘু মানুষ যোগ দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: ফ্লাইদুবাই-কাণ্ডের পর আল কায়দার হুমকি!  ৯/১১-র প্রসঙ্গ টেনে ফের বিমান হামলার ডাক

শেষ দিনের প্রচারে সকাল থেকেই নন্দীগ্রামে ব্যস্ত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে টেঙ্গুয়ার মোড় থেকে নন্দীগ্রাম হাসপাতাল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার পদযাত্রা করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভাই তথা বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী, মন্ত্রী অরূপকুমার দাস এবং বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। পদযাত্রাকে ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় দেখা যায়। 

আরও পড়ুন: ২০১৯ থেকে ২০২৬—স্ট্যান্ডিং কমিটি নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা দোলা সেনের

পদযাত্রার পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ভোটের হার যত বেশি হবে, জয়ের ব্যবধানও তত বাড়বে। নন্দীগ্রামে প্রায় ৭২ হাজার সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে। তাঁর কথায়, এদিনের মিছিলে হাজারের বেশি সংখ্যালঘু মানুষ অংশ নিয়েছেন। ফলে সংখ্যালঘু ভোটও বিজেপির দিকে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সকালের কর্মসূচির পর আলিপুরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন শুভেন্দু। সেখানকার কর্মসূচি শেষ করেই ফের নন্দীগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বিকেলে রাজারামচক হাই স্কুল থেকে মীরের বাজার পর্যন্ত ফের পদযাত্রায় অংশ নেন শুভেন্দু। অর্থাৎ শেষ দিনেও একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে নন্দীগ্রামে প্রচারের ঝাঁঝ ধরে রাখতে কোনিও খেদ রাখলেন না রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। 

শেষ দিনের প্রচারে নন্দীগ্রামের ভোটের ফল নিয়েও বড় দাবি করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘নোটার উপরে না নিচে, বলতে পারব না। আবেদন করেছি, নোটার নিচে নামিয়ে দিন। কিন্তু এরা যে দশ হাজার জমা দিয়েছে, সিকিউরিটি মানি ফেরত পাবে না, কেউ পাবে না। জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। নন্দীগ্রামে বিজেপিই জিতবে। অনেক ভোটে জিতবে। সেটা ৫০ হাজার হবে না, এক লক্ষ পেরোবে।’’

প্রসঙ্গত, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন, ভোটগণনা ৯ অক্টোবর। রবিবার সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে প্রচারপর্ব। এরপর ভোটারদের রায়েই ঠিক হবে দুই কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ।