ফ্লাইদুবাই বিমানে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে উদ্বেগ। আমেরিকা ও ইজরায়েলগামী বিমানকে লক্ষ্য করে একই ধরনের হামলার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে আল কায়দাপন্থী একটি প্রতিবেদনে। ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার প্রসঙ্গও টেনে আনা হয়েছে ওই বক্তব্যে। জানা গিয়েছে, আল কায়দাপন্থী সমর্থকদের একটি সাপ্তাহিক আরবি প্রকাশনার সাম্প্রতিক সংস্করণেই ফ্লাইদুবাই-কাণ্ডের উল্লেখ করে আমেরিকান ও ইজরায়েলি বিমানকে লক্ষ্য করে একই ধরনের হামলার ডাক দেওয়া হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বিমানে থাকা ওমানি সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামির বিরুদ্ধে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা এবং ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে বিমানটি গুরুতর বিপদের মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেন স্মিত, যাত্রী ও ক্রুদের তৎপরতায় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। পরে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। এই ঘটনার পর থেকেই হামাম আল-হামামির অতীত এবং সম্ভাব্য উগ্রপন্থী যোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ওমানে তাঁর উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আগে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে আল কায়দার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্ব ও চরমপন্থী প্রচারের নজির পাওয়া গিয়েছে।
তবে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ঘটনার সঙ্গে আল কায়দার সরাসরি সাংগঠনিক যোগ রয়েছে—এমন কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ঘটনার তদন্ত চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষও বিষয়টি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে। এদিকে আল কায়দাপন্থী প্রকাশনায় ৯/১১-র ঘটনা এবং সাম্প্রতিক ফ্লাইদুবাই-কাণ্ডকে পাশাপাশি তুলে ধরে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফ্লাইদুবাই-কাণ্ডের তদন্ত যখন এখনও চলছে, তখনই ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আল কায়দাপন্থী প্রচার সামনে আসায় বিমান নিরাপত্তা, উগ্রপন্থী মতাদর্শ এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী নজরদারি—তিন ক্ষেত্রেই নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে।















