বিধ্বংসী ড্রোন হামলায় ধূলিসাৎ হয়ে গেল ইউক্রেনে এক ভারতীয় উদ্যোগপতির স্বপ্নের কারখানা। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের সুমি শহরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিল্পপতির মালিকানাধীন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘কুসুম গ্রুপ’-এর সুবিশাল ফার্মা প্ল্যান্টে আছড়ে পড়ল রুশ ড্রোন। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত এক জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েক জন কর্মী। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কারখানাটির মূল বহুতল ভবন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই হামলায় ভারতীয় সংস্থার ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রমণের তীব্রতায় বহুতলটির কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং মুহূর্তেই ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় সংলগ্ন আকাশ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা জানতে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মৃত কর্মীর পরিবারের প্রতি শোকবার্তা জানিয়ে তিনি লেখেন, সুমি শহরের একটি নিরীহ ওষুধ প্রস্তুতকারী কারখানাকে নিশানা করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মর্মান্তিক ভাবে এক জনের প্রাণ গিয়েছে। শুধু সুমিই নয়, কিভের পিভনিচনি সেতু এবং দানিপ্রো শহরের একটি যোগাযোগ কেন্দ্রেও একই সময়ে রুশ ড্রোনের আঘাতে অন্তত ছয় জন জখম হয়েছেন বলে জানান জেলেনস্কি।

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও সুমির এই কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে জরুরি ওষুধ উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছিল। রাজীব গুপ্ত নামে এক ভারতীয় উদ্যোগপতির হাত ধরে ১৯৯৪ সালে পথচলা শুরু করেছিল কুসুম গ্রুপ। নিজেদের ‘ভারতীয় শিকড়যুক্ত ইউক্রেনীয় সংস্থা’ বলেই পরিচয় দিতে পছন্দ করে এই সংস্থাটি। শুরুতে ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ রফতানি ও বিপণন করলেও ২০০২ সাল থেকে নিজস্ব ব্র্যান্ডের ওষুধ তৈরি শুরু করে তারা। এর পর ২০০৭ সালে ভারতে এবং ২০০৯ সালে ইউক্রেনের সুমিতে বড় কারখানা গড়ে ওঠে। বর্তমানে ভারতে আরও দুটি প্ল্যান্ট রয়েছে তাদের। প্রায় ৫০টিরও বেশি জেনেরিক ওষুধ তৈরি করে এই সংস্থা, যা উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও ফিলিপিন্স-সহ বিশ্বের অন্তত ন’টি দেশে রফতানি করা হয়। ড্রোনের ধাক্কায় নিমেষে ছারখার হয়ে গেল তিন দশকের সেই প্রচেষ্টা।

সামরিক মহলের মতে, গত গ্রীষ্ম থেকে ইউক্রেনের নানা প্রান্তে দ্রুতগতির জেট-চালিত ‘শাহেদ’ ড্রোনের ব্যবহার মারাত্মক ভাবে বাড়িয়েছে মস্কো। অতি দ্রুতগতির কারণে এই ড্রোনগুলিকে মাঝ-আকাশে প্রতিরোধ করতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে রুশ হামলার মুখে পাল্টা জবাব হিসেবে নিজেদের তৈরি প্রথম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘এফপি-৭’ যুদ্ধের ময়দানে সফল প্রয়োগের দাবি করেছে কিভ, যার পাল্লা প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। কিন্তু সেই সামরিক লড়াইয়ের চরম মাশুল গুনতে হল এক ভারতীয়ের বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা শিল্প সংস্থাকে।