নিহত ব্যক্তি নিজেই আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা করে দিলেন নিজের খুনিকে! শুনতে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও, সম্প্রতি একটি আদালতের এজলাসে ঠিক এমনটাই ঘটেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি ভিডিও আদালতে প্রদর্শন করার পর বিচারক থেকে শুরু করে উপস্থিত সকলের চোখ ভিজে ওঠে জলে। এই নজিরবিহীন ঘটনার জেরে খুনিকে দেওয়া আগের শাস্তি বাতিল করে নতুন করে সাজা ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন: ‘তারিখ পে তারিখ’ নয়, নয়া ফৌজদারি আইনে ৩ বছরের মধ্যেই বিচার: দাবি শাহের

ঘটনাটি ২০২১ সালের। গ্যাব্রিয়েল পল হরকাসিটাস নামে ৫৫ বছরের এক ব্যক্তি গাড়ি চালানোর সময় বচসার জেরে ৩৭ বছরের ক্রিস্টোফার পেলকিকে গুলি করে খুন করেন বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় হরকাসিটাস দোষী সাব্যস্ত হন। পরে তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার শুনানির সময় হঠাৎই আদালতের পর্দায় ভেসে ওঠে নিহত ব্যক্তির অবিকল চেহারা ও কণ্ঠস্বর। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ওই ভিডিওতে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তি তাঁর খুনিকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, তিনি তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তিনি চান না যে তাঁর খুনের অপরাধে অন্য কারও জীবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাক।

আরও পড়ুন: লোকভবনে ‘ক্যালকাটা কিলিং’ নিয়ে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা! বিভাজন নয়, সম্প্রীতির বার্তা দিন: সরব কুণাল

ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন নিহত ক্রিস্টোফার পেলকির পরিবারের সদস্যরা। ভিডিওটি যে আসল নয় এবং এটি এআই দিয়ে তৈরি, তা আদালতের সবারই জানা ছিল। তা সত্ত্বেও ভিডিওটির বার্তা এবং নিহত ব্যক্তির অবিকল উপস্থাপনা এতটাই জীবন্ত ও আবেগপূর্ণ ছিল যে, কাঠগড়ায় থাকা খুনি এবং খোদ বিচারক টড ল্যাং-এর চোখও জলে ভরে যায়।

আরও পড়ুন: ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-কে দরাজ সার্টিফিকেট শাহেনশাহের! আপ্লুত সৃজিত

এই আবেগঘন পরিস্থিতির পর আদালতের আইনি প্রক্রিয়ায় এক নাটকীয় পরিবর্তন আসে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের আর্জি এবং এই এআই ভিডিওর গভীর প্রভাব বিবেচনা করে আদালত আগের রায় পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিচারক জানিয়েছেন, অপরাধের গুরুত্ব বজায় রেখেও মানবিক দিকটি বিবেচনা করে খুনিকে নতুন করে সাজা শোনানো হবে।

প্রযুক্তির এই যুগে এআই যে কেবল অপরাধের তদন্ত বা তথ্যপ্রযুক্তিতেই নয়, বরং আদালতের এজলাসে মানুষের আবেগ ও বিচারপ্রক্রিয়াকেও এভাবে প্রভাবিত করতে পারে, এই ঘটনা তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।