দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানের ককপিটে কর্তব্যরত ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের (Smit Machchhar) উপর হামলাকারী ওমানি পাইলট কে ছেড়ে দেওয়ার জন্য যাত্রীদের উপর চাপ দিয়েছিলেন ফ্লাই দুবাইয়ের (Fly Dubai) বিমানকর্মীরা! সফররত বিমান যাত্রীদের বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই 'জঙ্গি' পাইলটের পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে। তার নাম হামাম আল-হামানি। তিনি দীর্ঘ সময় সিরিয়ায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে আইএস বা আল-কায়েদা ঘরানার চরমপন্থী ভাবধারা গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে তার মনে। কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে নয়, বরং বিমান হাইজ্যাক করতে অথবা ইজরায়েলে উড়ান ক্র্যাশ করানোর জন্যই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক অনুমান।

ঘটনার দিন মাঝ আকাশে রুট বদল করে অভিযুক্ত পাইলট সৌদি আরবের দিকে বিমান ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেই তাকে আটকাতে যান কো-পাইলট স্মিত। এরপরই ছুরি দিয়ে রক্তাক্ত করা হয় ভারতীয় পাইলটকে। এই সময় যাত্রীরা হামামকে পাকড়াও করলেও পরবর্তীতে ফ্লাই দুবাইয়ের বিমান কর্মীরা তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফ্লাই দুবাই বিমানের ঘটনা নিয়ে শনিবার সংযুক্ত আরব আমি সাহিত তরফে সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। যেখানে বলা হয়েছে অভিযুক্ত পাইলট হামাম সন্ত্রাসবাদি হামলার ছক কষেই স্মিতকে আক্রমণ করেছিলেন। ৯/১১-র ঘটনার পর বিমানে অস্ত্র রাখার নিয়মে বড় রদবদল করা হয়। সেটাকেই কাজে লাগিয়েছিলেন ওমানি পাইলট। আসলে বিমান চলাচলের আন্তর্জাতিক বিধি অনুযায়ী পুরানে একটি 'ক্র্যাশ এক্স' স্থাপন করা হয় বিমান তৈরীর সময়। যাতে দুর্ঘটনার পরিস্থিতিতে এই কুঠার ব্যবহার করা যায়। বাণিজ্যিক বিমানে এগুলো আগে মূল কেবিনে রাখা হলেও ৯/১১-র পর থেকে ককপিটে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেটা কি কাজে লাগিয়েছিল হামাম।

 বিমানে থাকাকালীন যাত্রীরা ককপিটে গন্ডগোলের আঁচ পেয়ে ছুটে গিয়ে ওমানি পাইলটকে আটকানোর চেষ্টা করেন। কয়েকজন মিলে অভিযুক্তকে পাকড়াও করে তার হাত পা বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানকর্মীরা নাকি এতে চরম আপত্তি জানান। তাঁরা দাবি করেন, হামামকে ছেড়ে দিতে হবে। যাত্রীদের মনে সন্দেহ হয় যে কেন অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য জোর করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও সদুত্তর মেলেনি। প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি বিমান সংস্থার কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল? ফ্লাই দুবাই এখনও পর্যন্ত এই বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।