অবশেষে নাম ও পরিচয় প্রকাশ্যে এল দুবাই থেকে তেল আভিভ গামী ফ্লাইদুবাইয়ের (flydubai) বিমানের হামলাকারী পাইলটের। তাঁর নাম হামাম আলহামামি ওমানের নাগরিক। তবে তাঁর জন্ম সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। তাঁর বাবা ওমানি, মা সিরিয়ার নাগরিক।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, আলহামামি তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময়টাই ওমানের বাইরে কাটিয়েছে। সিরিয়াতে তাঁর বেড়ে ওঠা। সেখান থেকেই চরমপন্থী ভাবনাচিন্তায় প্রভাবিত হয়েছিল। তিনি ওমানের নাগরিক। কিন্তু তাঁর দেশ তাঁকে আগেই নিষিদ্ধ করেছিল। ওমানে তিনি বিমান চালাতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। ফলে দুবাইয়ের বিমান সংস্থায় যোগ দেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে কো-পাইলট ট্রেনি হিসাবে কাজ শুরু করেছিল। সেই সময় তাঁর কাছে উগ্র ও চরমপন্থী কিছু জিনিসপত্র পাওয়া যায়। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁকে বিমান চালানো থেকে সরিয়ে দিয়ে কাজ করতে পাঠানো হয় অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিভাগে। ২০২৫ সালের জুন মাসে রয়াল এয়ার মারোক এয়ারলাইন্সে যোগ দেয়। এই বছর জানুয়ারিতে চাকরি ছেড়ে ফ্লাইদুবাইতে যোগ দেয়।
তবে তাঁর উপরে জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অন্য দেশ বা বিমান সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছিল কি না, তা অস্পষ্ট। দাবি, সে বিমানটি ইজরায়েলে আছড়ে ফেলার মতলব কষেছিল। যা শেষপর্যন্ত ব্যর্থ হয়। ইতিমধ্যেই হামলাকারী সহ-পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার সকালে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। চালকের আসনে ছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। অভিযোগ, ককপিটের ভিতর তাঁর উপর আচমকা হামলা চালান সহ-পাইলট। ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয় তাঁকে। প্রায় দু’মিনিটে ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নীচে নেমে আসে বিমানটি। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা অন্যান্য পাইলট এবং বিমানকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ককপিট। গুরুতর আহত অবস্থায় পড়েছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। কিন্তু উড়ানটি নিরাপদে সৌদির উত্তর-পশ্চিমে, তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বর্তমানে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর সৌদির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আপাতত সঙ্কট মুক্ত ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট স্মিত মচ্ছর। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।















