মহাকাশ থেকে আমাদের চেনা পৃথিবীর রূপ বরাবরই অনন্য এবং বিস্ময়কর। তবে সম্প্রতি আমেরিকান মহাকাশচারী জেসিকা মেয়ার অসম্ভব সুন্দর ‘আর্থ আর্ট’(Earth Art) বা ল্যান্ডস্যাট–এর ছবি সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন, যা দেখে নেটিজেনদের মনে হচ্ছে যেন হিমশীতল কোন ল্যাবরেটরির ডিপ ফ্রিজে যত্নে রেখে দেওয়া হয়েছে নীল গ্রহের একটা টুকরো। 

আরও পড়ুন: অনামী দলের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা, নির্বাচনী আধিকারিকদের উচ্চ সরকারি পদ! বিস্ফোরক অভিষেক

বিজ্ঞানের ভাষায় একে ল্যান্ডস্যাট ডাটা বলা হলেও, এর ভেতরের শৈল্পিক গুণের কারণে একে ‘আর্থ আর্ট’ বলে অভিহিত করা হয়। এই ছবিগুলি একদিকে যেমন বিজ্ঞানীদের জলবায়ু পরিবর্তন ও ভৌগোলিক রূপান্তর বুঝতে সাহায্য করে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে পৃথিবীর অপরূপ সৌন্দর্যের প্রেমে পড়তে বাধ্য করে।

আরও পড়ুন: দু’বার বিষের ইঞ্জেকশন, তবু থামেনি হৃদ্‌স্পন্দন! ক্রিস্টার মৃত্যুদণ্ড ঘিরে তোলপাড় টেনেসি

মহাকাশচারী জেসিকা মেয়ার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ‘কুপোলা’ (Cupola—মহাকাশ স্টেশনের পর্যবেক্ষণ উইন্ডো) থেকে চিলির বিখ্যাত নর্দার্ন প্যাটাগোনিয়া আইসফিল্ডের (Northern Patagonia Icefields) এই অসাধারণ ছবিটি ক্যামেরাবন্দি করেছেন। মহাকাশে নিজের কাজের ফাঁকেই এই ভৌগোলিক অঞ্চলের চমৎকার ভূসংস্থান বা টপোগ্রাফি তাঁর নজর কাড়ে। নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে ছবিটি শেয়ার করে তিনি একে প্রকৃতির এক অনন্য 'আর্থ আর্ট' (Earth Art) বা ভূ-শিল্পকলা হিসেবে অভিহিত করেন। ছবিটি তোলার জন্য তিনি ৪০০ মিলিমিটার লেন্সসহ একটি সর্বাধুনিক নিকন জেড৯ (Nikon Z9) ক্যামেরা ব্যবহার করেছিলেন।

 

আরও পড়ুন: আরবি গানে কোমর দোলাল চিনা রোবট! তাক লাগাল রিয়াধের রাজকীয় মঞ্চে

ছবিটিতে নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে জমাট বাঁধা সাদা বরফের চাদর, হিমবাহের খাঁজে খাঁজে আলো-ছায়ার খেলা এবং তার মাঝে নীলচে জলের ধারা। ফ্রেমের একপাশে ঘন নীল সমুদ্র এবং বরফাবৃত অঞ্চলের এই রূপকে নেটিজেনরা কোনো অতিবাস্তব বা পরাবাস্তব শিল্পকর্মের সঙ্গে তুলনা করছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছবিটি পোস্ট করে জেসিকা মেয়ার লেখেন, “আমাদের চেনা গ্রহের ভেতরে এবং বাইরে—উভয় জায়গাতেই অন্বেষণ করার মতো অজস্র অবিশ্বাস্য সুন্দর স্থান রয়েছে।” 

আমেরিকান মহাকাশচারীর তোলা এই ছবিটির সৌন্দর্য খবরের শিরোনামে আসার পর থেকেই লাইক ও কমেন্টের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, প্রকৃতির চেয়ে বড় শিল্পী এই মহাবিশ্বে আর কেউ নেই। বিজ্ঞান আর আলোকচিত্রের এই অনন্য মিশেল সাধারণ মানুষকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, মহাকাশ থেকে আমাদের পৃথিবী কতটা সুন্দর, বৈচিত্র্যময় এবং একই সঙ্গে কতটা সংবেদনশীল।