মহাকাশে যেন পুরোদস্তুর সার্কাসের খেলা চলছে! সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস (ISS)-এর দিক পরিবর্তনের এক বিস্ময়কর ও বিরল ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নাসার ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নভশ্চর অনিল মেনন। স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযানের জানলা দিয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, কীভাবে মহাশূন্যে নিজের অবস্থান বদলে ডিগবাজি বা বাঁক নিচ্ছে বিশালকায় এই স্পেস স্টেশনটি। মজার ছলে একে মহাকাশ স্টেশনের ‘জিমন্যাস্টিকস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন অনিল।
আরও পড়ুন: 'মৃত’ শিশুর ছাড়পত্রে লেখা ‘সুস্থ ও সবল’! মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে চাঞ্চল্য
অনিল মেনন সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটির পেছনের আসল বিজ্ঞানটি ব্যাখ্যা করে জানান, কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করার সময় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটিকে একটি বিশেষ ‘বুস্ট’ বা গতি প্রদান করার (Orbital Reboost Manoeuvre) প্রয়োজন পড়েছিল। এই বুস্টিং প্রক্রিয়ার জন্য নাসার প্রকৌশলীদের পুরো স্পেস স্টেশনটির অভিমুখ বা দিক পরিবর্তন করতে হয়েছিল। ভিডিওটিতে মূলত স্টেশনটি বুস্ট নেওয়ার পর আবার তার আগের অবস্থানে ঘুরে আসার বা ডিগবাজি দেওয়ার চোখজুড়ানো দৃশ্য ফুটে উঠেছে।
আরও পড়ুন: “ইন্দ্রদেবের ফোন নম্বর নেই”! বিনা নোটিশে বৃষ্টির জেরে ‘ভগবান’-এর বিরুদ্ধে অনলাইন মামলা
নেটিজেনদের চমকে দেওয়া এই ভিডিওটি কিন্তু সাধারণ কোনও ভিডিও নয়। অনিল মেনন জানিয়েছেন, প্রায় ৫,৫০০টি স্থির চিত্র (Still Images) পরপর জুড়ে এই অসাধারণ টাইম-ল্যাপ্স ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। মূল ছবিগুলিতে কোন ধরনের ডিজিটাল কারসাজি বা এডিটিং করা হয়নি। তবে মহাকাশ স্টেশনের এই জটিল ঘূর্ণন এবং তার ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা পৃথিবীর অপরূপ রূপ যাতে দর্শক নিখুঁতভাবে বুঝতে পারেন, তার জন্য ভিডিওর ফ্রেম রেট বা গতি কিছুটা বাড়ানো-কমানো হয়েছে।
I’ll never forget this sight. Tonight I saw my first aurora from space. Luckily, there is a video to help remember and captured it perfectly. The KP index was over 5 tonight because of a solar event and the sky over Australia lit up and the green snaked across the atmosphere. I was filled with awe and gratitude. It’s a beautiful planet we share.
— Anil Menon (@astro_anil) August 2, 2026
আরও পড়ুন: রেজিনগরে ঋত-শিবিরের প্রচারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! লজেন্স কুড়তে গিয়ে মৃত শিশু
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ায় প্রশংসার ঝড় উঠেছে। শূন্য মাধ্যাকর্ষণে এত ভারী একটি মহাকাশ স্টেশন কীভাবে অনায়াসে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছে, তা দেখে বিজ্ঞানপ্রেমীরা বিস্মিত। অনেকে আবার মন্তব্য করেছেন, মহাকাশের কালচে অন্ধকারের বুকে আমাদের নীল গ্রহকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে স্পেস স্টেশনের এই ঘূর্ণন যেন কোন চমৎকার ‘মহাজাগতিক ব্যালে নৃত্য’ বা ব্যালান্স ড্যান্স।
















