সদ্যোজাতের মৃত্যুর খবর দিয়েছে হাসপাতাল। কিন্তু পরিবারের হাতে দেওয়া ছাড়পত্রে লেখা, শিশু ‘সুস্থ ও সবল’। হাসপাতালের নথিতে এমন অসঙ্গতি ঘিরেই দানা বেঁধেছে রহস্য। শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার দাবিতে এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (Midnapore Medical College and Hospital)। 

আরও পড়ুন: রেজিনগরে ঋত-শিবিরের প্রচারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! লজেন্স কুড়তে গিয়ে মৃত শিশু

চলতি মাসের ২০ তারিখ প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাতৃমা বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন খড়্গপুরের বুলবুলচটি এলাকার বাসিন্দা সেলুনি প্রসাদ। ওই দিন বিকেলেই তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। জন্ম নেয় পুত্রসন্তান। পরিবারের দাবি, জন্মের পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এরপর তাকে দ্রুত নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, ২৫ তারিখ তাঁদের জানানো হয়, শিশুটির মৃত্যু (Child Death) হয়েছে। কিন্তু মৃত শিশুটিকে শনাক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁদের। এর পর হাসপাতালের তরফে পরিবারের হাতে দেওয়া হয় ছাড়পত্র। সেই নথি হাতে পেয়েই কার্যত হতবাক হয়ে যান পরিবারের সদস্যরা।

ছাড়পত্রে শিশুটিকে ‘সুস্থ ও সবল’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যে শিশুর মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানানো হয়েছে, সেই শিশুর ছাড়পত্রে কী ভাবে ‘সুস্থ ও সবল’ লেখা থাকতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। পরিবারের অভিযোগ, নথির এই অসঙ্গতি গোটা ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। তাদের দাবি শিশুর দেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হোক। সেই দাবিতে মঙ্গলবার মেদিনীপুর আদালতের (Midnapore Court)  দ্বারস্থ হন পরিবারের সদস্যরা।

গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, মঙ্গলবার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। এই পুরো ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার চিকিৎসক ইন্দ্রনীল সেন বলেন, “ ছাড়পত্রে শিশুকে ‘সুস্থ ও সবল’ লেখার বিষয়টিকে আপাতত ‘কেরানিগত ভুল’ বা ক্লারিক্যাল এরর ছিল।” তাতেই প্রশ্ন উঠছে হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে এত বড় অসঙ্গতি কী ভাবে ঘটল? এটি নিছক নথিগত ভুল, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে?