স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ। তা নিয়ে দাম্পত্য অশান্তির পরের দিনই শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ (Bonga) পুলিশ জেলার গোপালনগর থানা (Gopalnagar Police Station) এলাকায়। মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। মৃত্যুর নেপথ্যে আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন: অশ্লীল ভিডিও দেখিয়ে নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ, ধৃত ৩

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম পূর্ণিমা মণ্ডল। প্রায় ১৪ বছর আগে চাকদহের বাসিন্দা পূর্ণিমার সঙ্গে বিয়ে হয় ব্যাঙ্ককর্মী সন্দীপ বৈদ্যের। বর্তমানে তিনি ব্যাঙ্কের ম্যানেজার (Bank Manager) পদে কর্মরত। পূর্ণিমার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কয়েক বছর পর তাঁদের একটি কন্যাসন্তান হয়। এরপর থেকেই তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ। মৃতার পরিবারের আরও দাবি, সন্দীপের সঙ্গে সেখানকার গ্রাহক মহিলা পুলিশকর্মীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। আর তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন পূর্ণিমা। বিষয়টি নিয়ে প্রায়শই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তিও চলছিল। পাশাপাশি বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্যও পূর্ণিমার উপর চাপ দেওয়া হত বলে অভিযোগ পরিবারের।

পূর্ণিমার দিদি সীমা মণ্ডল জানিয়েছেন, ঘটনার আগের রাতে প্রায় দুটো নাগাদ তাঁর বোন ফোন করেছিলেন। ফোনে তিনি স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এরপর পূর্ণিমার শ্বশুরবাড়িতে ফোন করা হলে তাঁর শরীর খারাপ বলে জানানো হয় এবং তাঁকে দেখতে যেতে বলা হয় বলে দাবি মৃতার পরিবারের। 

রবিবার সকালে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে পূর্ণিমার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এরপরই পূর্ণিমার পরিবারের তরফে তাঁর স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে গোপালনগর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই মৃতার স্বামী সন্দীপ বৈদ্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। মৃত্যুর আগে পূর্ণিমার সঙ্গে কার কার যোগাযোগ হয়েছিল, তাঁর ফোনে কী ধরনের তথ্য রয়েছে এবং পরিবারের তরফে তোলা অভিযোগের সঙ্গে মৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না—সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।