ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জনতার দরবার করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণত সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরেই এই জনতার দরবার করে থাকেন তিনি। মঙ্গলবারও সেখানে বসেছিলেন তিনি, সঙ্গে ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব। আর সেখানেই ৬ মাসের ফুটফুটে ঋত্বিকে কোলে নিয়ে উপস্থিত হন তার বাবা-মা সুপ্রিয় ঘোষ ও কোয়েল ঘোষ। তাঁদের আর্জি সন্তানের প্রাণরক্ষার।
আরও পড়ুন: সুখি সাজঘরই দলের সাফল্যের চাবিকাঠি, গিলকে টিপস কোহলির
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র ৩ মাস বয়স থেকেই ঋত্বির শারীরিক গতিবিধিতে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন তার মা-বাবা। সমবয়সী অন্য বাচ্চাদের মতো হাত-পা ছোঁড়া বা স্বাভাবিক নড়াচড়া হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় শিশুটির। এরপরই কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি আক্রান্ত ‘স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি’ (SMA) নামক একটি অত্যন্ত বিরল এবং জটিল জিনগত রোগে। এই মারণ রোগ শরীরের পেশীগুলিকে ক্রমশ নিষ্ক্রিয় করে দেয়। চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা— এই পরিস্থিতি থেকে শিশুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন একটি বিশেষ জীবনদায়ী জিন থেরাপি ইঞ্জেকশন, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: আমানতকারীদের জন্য সুখবর! রোজভ্যালিকে টাকা ফেরাতে সময়সীমা বেঁধে দিল আদালত
একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে ১৭ কোটি টাকা জোগাড় করা অসম্ভব বললেও কম বলা হয়। চারিদিকে যখন শুধুই অন্ধকার, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এর কথা জানতে পারেন বেলঘরিয়ার এই দম্পতি। সন্তানকে কোলছাড়া না করার পণ নিয়ে আজ সকাল-সকালই তাঁরা সল্টলেকের অফিসে এসে পৌঁছান।
আজ যখন জনতার দরবারে ভিড়ের মাঝে শুভেন্দুর সামনে দাঁড়ান কোয়েল, তখন তাঁর চোখের জল ধরে রাখা দায় হয়ে পড়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে বাড়িয়ে দেন শিশুটির চিকিৎসার সমস্ত নথিপত্র এবং ১৭ কোটি টাকার সেই পাহাড়প্রমাণ খরচের প্রেসক্রিপশন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে শিশুটির সমস্ত চিকিৎসার ফাইল খুঁটিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অসহায় মা-বাবার মাথায় হাত রেখে তিনি সান্ত্বনা দেন এবং স্পষ্ট জানান যে, টাকার অভাবে একটি শিশুর প্রাণ চলে যাবে— এমনটা হতে দেওয়া যায় না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সরকারি সাহায্য ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: পরিচারিকা থেকে ‘পিঙ্ক ক্যাবে’র মালকিন! এক লড়াইয়ের নাম মানসী মৃধা
মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর সল্টলেকের কার্যালয় থেকে বেরোনোর সময় সুপ্রিয় ও কোয়েলের চোখে মুখে আর শুধু অন্ধকার ছিল না, ছিল এক চিলতে লড়াইয়ের আলো। এখন দেখার, এই বিপুল ব্যয়ের চিকিৎসার প্রক্রিয়াটি রাজ্য প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কত দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়। তবে আজকের এই ঘটনা প্রমাণ করল, ‘জনতার দরবার’ শুধু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক অভাব অভিযোগের মঞ্চ নয়, এটি সাধারণ মানুষের চরম বিপদের দিনেও এক পরম আশ্রয় হয়ে উঠছে।
















