রোজভ্যালি (Rose Valley) মামলায় আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়ায় এবার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে রোজভ্যালির সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালত নিযুক্ত অ্যাসেট ডিস্পোজাল কমিটির মাধ্যমেই এই টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। মঙ্গলবার রোজভ্যালি মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দিয়েছে  বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ। অর্থাৎ, আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর ক্ষেত্রে আর দীর্ঘসূত্রিতা নয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

আরও পড়ুন: ইস্যু জ্ঞানেশ কুমার: I.N.D.I.A.-র বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি গেলেন মমতা-অভিষেক

আদালতের তরফে জানান হয়েছে,  ২০২৬ সালের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ৩২ লক্ষ ৪৩ হাজার ২২০টি মুলতুবি দাবির ভিত্তিতে যোগ্য আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি ও অর্থ বণ্টনের কাজ শেষ করতে হবে। প্রতি মাসে কমিটিকে আদালতে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এছাড়া সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ফরেনসিক অডিট শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। হাইকোর্ট আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পরেও কাজ বাকি থাকলে তা বিচারপতি এস পি তালুকদারের এক সদস্যের কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রোজভ্যালির আমানতকারীদের জন্য সুখবর দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। দুর্গাপুজোর আগেই প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছিল বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। এবার সেই প্রক্রিয়াকে আরও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিয়ে এল আদালত।

ভারতের পূর্বাঞ্চল- বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, ওড়িশা অসমের অন্যতম বৃহত্তম চিটফান্ড কেলেঙ্কারি রোজভ্যালি দুর্নীতি (Rose Valley Scam)। গৌতম কুণ্ডুর (Goutam Kundu) নেতৃত্বাধীন 'রোজভ্যালি গ্রুপ' কম সময়ে বেশি লাভের লোভ দেখিয়ে লাখ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। ইডি ও সিবিআই (ED-CBI)-এর তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১৭০০০ কোটি টাকা বাজার থেকে তুলেছিল, যা সারদা কেলেঙ্কারির পরিমাণের চেয়ে বহুগুণে বেশি। অভিযোগ, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা সেবির কোনও বৈধ অনুমতি ছাড়াই বাজার থেকে টাকা তোলা হত। ভুয়ো ডিবেঞ্চার বিক্রির নামে অর্থ সংগ্রহ করত। মূলত গ্রামীণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রায় ৬০ লাখের বেশি মানুষ বেশি সুদের আশায় নিজেদের সারাজীবনের উপার্জিত সঞ্চয় রোজভ্যালি সংস্থায় বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হয়ে পড়েন।

২০১৫ সালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুকে গ্রেফতার (Arrest) করে। পরবর্তীকালে তদন্তকারী সংস্থাগুলি সংস্থার একাধিক হোটেল, জমি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে। ভুক্তভোগীদের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আদালত নির্দেশিত কমিটি গঠিত হয়। তবে বহু প্রতারিত আমানতকারী আজও তাঁদের মূলধন ফেরত পাওয়ার আশায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিন আদালত টাকা ফেরত দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিতেই কিছুটা স্বস্তিতে রোজভ্যালির আমানতকারীরা।