বোলপুরে (Bolpur) বিজেপির বুথ সভাপতি চন্দন ভাল্লা খুনের ঘটনায় তদন্তে নয়া মোড়। ঘটনার দু’দিনের মধ্যেই দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার (Arrest) করল বোলপুর থানার পুলিশ (Bolpur Police Station)। ধৃতদের নাম শেখ আনারুল ও দীপঙ্কর রায়। মঙ্গলবার তাঁদের বোলপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে খুনের নেপথ্যে জমি সংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিবাদের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত তদন্তে জমি সংক্রান্ত লেনদেন ও বিবাদের একটি সূত্র উঠে এসেছে বলে খবর। তবে সেটিই চন্দনকে খুনের একমাত্র কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ইতিমধ্যে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করেছে পুলিশ।   

আরও পড়ুন: SIR-এ আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে! জ্ঞানেশকে নিয়ে দেশবাসীকে খোলা চিঠি মোদি-মন্ত্রিসভার প্রাক্তন মন্ত্রীর!


পুলিশ (Bolpur Police) সূত্রে খবর, গ্রেফতার শেখ আনারুল বোলপুরের আরতি মোড়ে মোবাইলের দোকান চালান। অন্য ধৃত দীপঙ্কর রায় জমি কেনাবেচার মধ্যস্থতার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের সঙ্গে চন্দনের কী ধরনের যোগাযোগ ছিল এবং জমি সংক্রান্ত কোনও লেনদেন বা বিবাদ থেকেই এই খুনের ঘটনা কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ধৃত দু’জন ঘটনার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তবে মূল হামলাকারী বা ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য অভিযুক্তদের এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। ফলে এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, থাকলে তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছে পুলিশ।


রবিবার সন্ধ্যায় বোলপুর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মতিপুকুর রাইস মিল সংলগ্ন এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় চন্দন ভাল্লাকে। তিনি বোলপুরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির বুথ সভাপতি ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার পর দুই ব্যক্তি বাইকে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছিল, ঘটনার আগে চন্দনের কাছে একটি ফোন এসেছিল। সেই ফোন পাওয়ার পরই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তবে কে তাঁকে ফোন করেছিলেন এবং কী কারণে তাঁকে ডাকা হয়েছিল, তা প্রথম দিকে স্পষ্ট ছিল না। ঘটনার পর থেকেই আততায়ীদের খোঁজে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তদন্তে ফরেনসিক দলের সাহায্যও নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে সোমবার বুথ সভাপতির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ভার নিয়েছিল সিআইডি। এরপরেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।