প্রতিদিন বিশ্বের কোটি কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য গিয়ে মিশছে আমাদের নদী ও সাগরে। এর ফলে তৈরি হয়েছে ‘গ্রেট প্যাসিফিক গার্বেজ প্যাচ’-এর মতো বিশাল প্লাস্টিকের দ্বীপ, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য ভীষণ খারাপ। কিন্তু এই আপাত-অসম্ভব সমস্যাকে জয় করতে এক অনন্য যুদ্ধ শুরু করেছেন ডাচ তরুণ বোয়ান স্ল্যাট (Boyan Slat)। ২০১৩ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তাঁর মাথায় আসা একটি আইডিয়া আজ রূপ নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র পরিচ্ছন্নতা অভিযানে—দ্য ওশান ক্লিনআপ (The Ocean Cleanup)।
আরও পড়ুন: তোলাবাজির অভিযোগে ফের কড়া শমীক, বার্তা দলের কর্মীদেরও
প্রথাগতভাবে জাল দিয়ে সমুদ্রের প্লাস্টিক তুলতে গেলে বিপুল জ্বালানি এবং সময়ের অপচয় হয়। বোয়ান স্ল্যাট সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি উপায় বের করলেন। তিনি সমুদ্রের নিজস্ব স্রোতকেই কাজে লাগালেন। ‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’ সাগরের বুকে তৈরি করেছে বিশাল আকৃতির ভাসমান ইউ-শেপড (U-shaped) ব্যারিয়ার বা কৃত্রিম উপকূল। সমুদ্রের প্রাকৃতিক স্রোতের টানে প্লাস্টিকগুলি নিজে থেকেই এই ব্যারিয়ারের ভেতরে এসে জমা হয়, যা পরবর্তীতে জাহাজের সাহায্যে তুলে আনা হয়।
শুধু সমুদ্রেই নয়, সাগরে প্লাস্টিক পৌঁছানোর আগেই তা আটকে দিতে সংস্থাটি তৈরি করেছে সৌরশক্তি চালিত সয়ংক্রিয় বোট—‘ইন্টারসেপ্টর’ (Interceptor)। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নদীগুলির মুখে এই ইন্টারসেপ্টরগুলি বসানো হয়েছে, যা সাগরে আবর্জনা পড়ার আগেই তা ছেঁকে তুলে নেয়।
আরও পড়ুন: পেট্রল নয়, এবার ১০০ শতাংশ ইথানলে গাড়ি: ঘোষণা গড়করির
সংস্থাটির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে নদী ও মহাসাগর থেকে ৬০ মিলিয়ন বা ৬ কোটি কিলোগ্রামেরও বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সফলভাবে অপসারণ করা হয়েছে। যেখানে একসময় ভাবা হত সমুদ্রের প্লাস্টিক পরিষ্কার করা অসম্ভব, সেখানে আজ ১৫০ জনেরও বেশি বিশ্বমানের ইঞ্জিনিয়ার এবং বিজ্ঞানী দিনরাত কাজ করে চলেছেন এই মিশন সফল করতে। সংস্থাটির মূল লক্ষ্য হল ২০৪০ সালের মধ্যে সমুদ্রের ভাসমান প্লাস্টিকের ৯০ শতাংশ সম্পূর্ণ নির্মূল করা। সংগৃহীত এই প্লাস্টিকগুলিকে ফেলে না দিয়ে রিসাইকেল করে বিভিন্ন টেকসই পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
আরও পড়ুন: ফিরছে আটের দশকের চেনা নস্ট্যালজিয়া! নতুন রুটে রাজকীয় এন্ট্রি নিচ্ছে ই-দোতলা বাস
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অর্জনকে সাধুবাদ জানিয়ে অনেকেই বলছেন, যেখানে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অহেতুক নানা ইস্যুতে মানুষের ট্যাক্সের টাকা অপচয় হচ্ছে, সেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার কীভাবে মানবজাতির কল্যাণ করতে পারে, ‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’ তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এক কিশোরের জেদ আর আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে মহাসাগরগুলি আবার তার প্রাণ ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
















