এবার ১০০ শতাংশ ইথানলেই (Ethanol) চলবে গাড়ি। অক্টোবরেই বাজারে আসছে ‘টয়োটা’র (Toyota) নয়া গাড়ি। আর সেই গাড়ি ১০০ শতাংশ ইথানলে চলতে সক্ষম। এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রী নিতীন গড়করি (Nitin Gadkari)। এমনিতেই 'ই-২০' জ্বালানি ব্যবহারের কারণে চিনির দাম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এর পর পুরোপুরি ইথানলে গাড়ি চললে চিনি যে মধ্যবিত্তের হেঁশেল থেকে অন্তর্ধান হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

আরও পড়ুন: "সাধুরা আর প্রতারিত হবেন না", গীতাপাঠের মঞ্চ থেকে বার্তা শুভেন্দুর

গড়করির বক্তব্য, শুধু ভারত নয়, বিশ্বের আরও ১৯টি দেশে ইথানল-নির্ভর জ্বালানির ব্যবহার হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে এই জ্বালানি ব্যবহারে বড় কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। ভারতেও ইতিমধ্যেই 'ই-২০' জ্বালানিতে গাড়ি চলছে এবং এখনও পর্যন্ত তা নিয়ে বড় কোনও অভিযোগ সামনে আসেনি।

আরও পড়ুন: ধর্মঘটের ধাক্কা সামলাতে আজ সারাদিন সচল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা

টয়োটার ‘ইনোভা’ ১০০ শতাংশ ইথানলে চলতে পারে। তবে ভারতে 'ফ্লেক্স-ফুয়েল' প্রযুক্তির ব্যবহার এই প্রথম নয়। এর আগেই জুন মাসে 'মারুতি সুজুকি' দেশের প্রথম 'ফ্লেক্স-ফুয়েল' (Flex fuel) যাত্রীবাহী গাড়ি বাজারে এনেছে। এই প্রযুক্তির গাড়িতে শুধু নির্দিষ্ট অনুপাতে পেট্রল বা ইথানল নয়, বিভিন্ন মাত্রায় দুই জ্বালানির মিশ্রণ ব্যবহার করা যায়। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ই-২০ থেকে শুরু করে ১০০ শতাংশ ইথানল পর্যন্ত জ্বালানি ব্যবহার করার সুযোগ থাকে।

নতুন গাড়ির খরচ নিয়েও হিসাব দিয়েছেন গড়করি। তাঁর দাবি, ১০০ শতাংশ ইথানলে চললেও এই গাড়ি ব্যবহার করতে যে খরচ হবে, তা প্রায় ২৫ টাকা প্রতি লিটার পেট্রলে গাড়ি চালানোর খরচের কাছাকাছি। শুধু তাই নয়, গাড়িটি চলার সময় প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎও উৎপাদন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আসলে ইথানল তৈরি হয় আখ, ভুট্টা-সহ বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য থেকে। বর্তমানে পেট্রলের সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়েই এই জৈব জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের উপর দেশের নির্ভরতা কমানো এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোই ইথানল ব্যবহারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।