একটা প্রতিবেদন ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে একাধিক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা যে একটা বৃহত্তর পরিকল্পনার অঙ্গ ছিল, তা অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে দেখিয়ে দিয়েছেন সাংবাদিক ঋতিকা চোপড়া। এবার এক সাক্ষাৎকারে তোলপাড় করা সেই রিপোর্টের নেপথ্য কাহিনি শুনিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ফের ছুঁড়ে দিলেন তিন প্রশ্ন।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার বিশিষ্ট সাংবাদিক ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপদ্ধতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর ও যুগান্তকারী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এই প্রতিবেদন মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে রয়েছে জনসাধারণের মনে তৈরি হওয়া প্রধান তিনটি প্রশ্নের উপর। সেই তিন প্রশ্ন তুলেই জ্ঞানেশ কুমারের জবাবদিহি চেয়েছেন সাংবাদিক। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল এই তিন প্রশ্ন নিয়ে। ঋতিকা সাফ জানিয়েছেন, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের কাছে আমার তিন প্রশ্ন ছিল। এক, ভোটার নিবন্ধন ফর্ম অর্থাৎ ফর্ম ৬ কেন আইনি অনুমোদন ছাড়াই পরিবর্তন করা হল? দুই, দেশের কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার প্রক্রিয়া এসআইআর কেন অস্বচ্ছ রাখা হল? তিন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে?
প্রথম প্রশ্নের নিরিখে ঋতিকা তাঁর প্রতিবেদন উল্লেখ করেছিলেন, নতুন ভোটারদের নিবন্ধনের জন্য ‘ফর্ম ৬’ নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের পরামর্শ উপেক্ষা করেই পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে মূল সিদ্ধান্ত কার ছিল এবং কেন কমিশনের ভিন্নমতকে তোয়াক্কা করা হল না, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রতিবেদনে।
বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়া এবং ভোটারদের নোটিশ পাঠানোর ক্ষেত্রে চরম অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে। বাংলার এসআইআরে একক অফিসারের লগইন আইডি ব্যবহার করে প্রায় ১৬ লক্ষ আবেদন জমা করা হয়েছিল। এই বিষয়টি বাকি দুই কমিশনারের অগোচরেই ঘটেছিল। তা লিখিত জানান ওই দুই কমিশনারই। এত ভোটারের নাম বাদ ও আপিল প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য এবং অস্বচ্ছতা নিয়ে দ্বিতীয় প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন ঋতিকা। আর তৃতীয় প্রশ্নে উঠে আসে এসআইআরে ময়দানে নেমে যে সমস্ত আধিকারিকরা কাজ করেছিলেন, তাঁদের ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের মূল আইটি বিভাগ ও ইসি-নেট নামক কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে পুরো ভোটার তালিকা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। গত ১০ মাসে বাকি দুই কমিশনার অন্তত ১৪ বার এই বিষয়ে আপত্তি জানান। তারপরও নির্বাচন কমিশনের চিরাচরিত যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি ভেঙে একক বা কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। এই বিষয়টি গণতন্ত্রের পক্ষে, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে ভয়ঙ্কর। ঋতিকা চোপড়া তাঁর নির্ভীক সাংবাদিকতায় এই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। নির্বাচন কমিশনের স্বায়ত্তশাসন এবং সামগ্রিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে এক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেন।
















