অনুদানের আড়ালে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি। গুজরাতে নথিভুক্ত অথচ অস্বীকৃত ৩টি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল গান্ধীনগর জোনের সিআইডি অপরাধদমন শাখা। ঘটনায় দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযুক্ত দলগুলি হল- ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল (বিএনজেডি), স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টি (এসএপি) এবং গরিব কল্যাণ পার্টি (জিকেপি)। দলগুলির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের নামেও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশকে ৩ প্রশ্ন ঋতিকার! শোনালেন তোলপাড় করা সেই রিপোর্টের নেপথ্য কাহিনি

আয়কর আইনের ৮০জিজিসি ধারা অনুযায়ী, নথিভুক্ত রাজনৈতিক দলকে দেওয়া অনুদানে ১০০ শতাংশ কর ছাড় পাওয়া যায়। এই নিয়মেরই অপব্যবহার করেছেন অভিযুক্তেরা। পদ্ধতিটি এমন ছিল- প্রথমে দাতারা চেক বা আরটিজিএস (রিয়্যাল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট)-এর মাধ্যমে দলকে টাকা পাঠাতেন। দল অনুদানের রসিদ দিত। সেই রসিদ দেখিয়ে দাতারা নিজেদের আয়কর রিটার্নে বিপুল কর ছাড় দাবি করতেন। ফলে সরকারের প্রাপ্য আয়করের ক্ষতি হত। এর পর রাজনৈতিক দলগুলি ওই অনুদানের টাকা বিভিন্ন ভুয়ো কোম্পানির (যেমন- জয় রাম এন্টারপ্রাইজ, কিষাণ এন্টারপ্রাইজ, জে ট্রেডিং) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠাত। সেখানে খাদ্যশস্য ও অন্যান্য সামগ্রী কেনার ভুয়ো বিল তৈরি করে পুরো টাকাটা নগদে তুলে নেওয়া হত। শেষে ৪ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন কেটে বাকি টাকাটা ক্যাশব্যাক হিসেবে আসল দাতাকে নগদে ফিরিয়ে দেওয়া হত। এই জালিয়াতি ঢাকতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের দিয়ে ভুয়ো অডিট রিপোর্ট ও 'ফর্ম ২৪এ' তৈরি করিয়ে তা নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হত। ব্যবহার করা হত ভুয়ো ডিজিটাল সিগনেচার।

পুলিশ সূত্রে খবর, সবচেয়ে বড় জালিয়াতি করেছে ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল (বিএনজেডি)। দলটি ৫৬ হাজার ২৩৮ জনের কাছ থেকে ১,১৪৩.৮৫ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে, যার ফলে প্রায় ৩৪৩ কোটি টাকার কর ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টি (এসএপি)। অনুদান হিসাবে তারা পেয়েছে ৫১৯ কোটি টাকা। এর ফলে ১৫৫ কোটি টাকার কর ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, গরিব কল্যাণ পার্টি (জিকেপি)-র অনুদানের অঙ্ক ২০৬.৭৬ কোটি টাকা, যার ফলে প্রায় ৬২ কোটি টাকার কর ক্ষতি হয়েছে।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবি! ২ অক্টোবর ককরোচদের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সমর্থন সোনমের

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে গুজরাতের বিভিন্ন নির্বাচনে এই দলগুলি প্রার্থী দিয়েছে। এমনকি ২০২৪-এর লোকসভা ও ২০২৬ সালের উপনির্বাচনেও অংশ নেয় দলগুলি। কিন্তু কোনও নির্বাচনেই তাদের প্রার্থীরা জামানত বাঁচাতে পারেননি। ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৫৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, মোট বৈধ ভোটের এক-ষষ্ঠাংশ (প্রায় ১৬.৬৭%) না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেখানে এই দলগুলির প্রাপ্ত ভোট ছিল ০.০১ শতাংশের কাছাকাছি। নির্দিষ্ট কিছু আসনেই তারা প্রার্থী দিত।