যেভাবে মানুষের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে বিজেপির অঙ্গুলি হিলনে কাজ করেছে নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তার বিরুদ্ধে আজ সরব গোটা দেশ। সাংবাদিক ঋতিকা চোপড়ার অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত হতেই জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) । শুক্রবার সকালে সিজেপি তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানানো হয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা না হয় তাহলে আগামী ২ অক্টোবর অর্থাৎ গান্ধী জন্ম জয়ন্তীর দিনে মুম্বই থেকে দেশব্যাপী আন্দোলনের সূচনা করবেন ককরোচরা।
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের ধাক্কা সামলাতে এবং মোদি-বিরোধী আবহ ভোঁতা করতে বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটিগুলিকেই বেছে নিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম ছাঁটার ছক কষা হয়েছিল। আর সেই পরিকল্পনা রূপায়ণে মূল হাতিয়ার করা হয়েছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। এমনই মারাত্মক অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করেন সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Dipke) । সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের অন্য দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।সিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না-পাওয়া এবং এনডিএ ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান মাত্র দুই শতাংশে নেমে আসায় সিঁদুরে মেঘ দেখেছিলেন অমিত শাহরা। সেই রাজনৈতিক জমি ফিরে পেতেই প্রশাসনিক যন্ত্র ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিরোধী নেতাদের নির্বাচনী এলাকাগুলিকে বিশেষ ভাবে নিশানা করা হয়। এরপরই পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘন্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয় জ্ঞানেশকে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার শুরুর দাবিও তোলা হয়।
আরও পড়ুন: চার সপ্তাহ সময় মিলল না, ৮ অক্টোবরের মধ্যেই জবাব দিতে হবে NCPI সাংসদদের
এরপর শুক্রবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ প্রতিবাদ আছড়ে পড়েছে। কলকাতা হোক বা দেরাদুন, লখনউ হোক বা দিল্লি সর্বত্র মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে 'ভোট চোর' আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরোধিতায় সরব বাম সংগঠন থেকে শুরু করে জাতীয় কংগ্রেস। এই আবহে এবার গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা।অভিজিৎ দীপকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশনারকে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম বা সময়সীমা যদি ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূরণ না হয়, তবে আগামী ২ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু করা হবে। সিজেপি যে যন্তর মন্তর ২.০ করার জন্য প্রস্তুত তা জেন জি-দের কথাবার্তায় বেশ স্পষ্ট।
দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৭ দিনের সফল আন্দোলনের পর, এবারের আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু করা হচ্ছে মুম্বইকে, যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।সিজেপি নেতৃত্ব এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং গণতন্ত্র বাঁচাতে দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে শহর কলকাতায় কলেজ স্ট্রিট চত্বর থেকে শুরু করে ধর্মতলার বিভিন্ন অংশে আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরোধিতায় বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে।মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে রাজপথে বাম মহিলা সংগঠন। বিক্ষোভ প্রতিবাদ মিছিলের অগ্রভাগে নেত্রী মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায়।তিনি জানান, এই SIR-এর জন্য কত মানুষের প্রাণ গিয়েছে, অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর দাম দিতে হবে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার পাশাপাশি মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও তোলেন তিনি। একই সুর বাংলার কংগ্রেস নেতৃত্বের গলাতেও। দেশের অন্যান্য শহরেও কংগ্রেস সমর্থকরা প্রতিবাদ কর্মসূচি করছেন।
















