তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে (NCPI) যোগ দেওয়া ২০ সাংসদকে দেওয়া দলত্যাগ-বিরোধী আইনের নোটিশের জবাব দেওয়ার সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। চার সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন ওই দলত্যাগী সাংসদরা। তবে সূত্রের খবর, তাঁদের সেই আবেদন মঞ্জুর না করে আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলেছেন স্পিকার। ফলে  ২০ সাংসদকে জানাতে হবে, ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল (দলত্যাগ বিরোধী আইন) অনুযায়ী কেন তাঁদের সদস্যপদ বাতিল বা অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না৷

আরও পড়ুন: রাজ্যের পাঠানো ‘গুন্ডাদমন বিল’ ফেরত পাঠালেন রাষ্ট্রপতি! “রিভার্স গিয়ার” বলে তীব্র খোঁচা অভিষেকের


পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর লোকসভার কুড়ি জন সাংসদ দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে নিজেদের NDA এর সমর্থনকারী হিসেবে তুলে ধরেন। দাবি করেন, তাঁরা NCPI দলে আছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার মঙ্গলমিলন বৈঠকেও দেখা যায় তাঁদের। কিন্তু অধিবেশন চলাকালীন বারবার দেখা গেছে যে এই সাংসদরা যে আসনে বসে আছেন সেখানে তৃণমূল সাংসদ হিসেবেই তাঁদের পরিচয় করানো হয়েছে। এরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে 'গদ্দার'দের একাধিকবার নিশানা করা হয়। কেন বিদ্রোহী সাংসদ পদ খারিজ হবেনা, জবাব চেয়ে চিঠি দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক  বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর লোকসভার স্পিকারের দফতর থেকে গত ২৫ আগস্ট ওই ২০ জন এনসিপিআই সাংসদকে নোটিশ পাঠিয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাব তলব করা হয়েছিল। কিন্তু নোটিশের জবাব দিতে পারেনি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন দলত্যাগী সাংসদেরা। উল্টে গোটা বিষয়টি সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যার জন্য আইনি পরামর্শের কারণ দেখিয়ে সাংসদরা স্পিকারের কাছে  ২২ সেপ্টেম্বর আরও চার সপ্তাহ সময় চেয়ে নিয়েছিলেন। এনসিপিআইয়ের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ এবং নিজেদের বক্তব্য প্রস্তুত করার জন্য তাঁদের আরও সময় দরকার। সেই কারণেই চার সপ্তাহের সময় চাওয়া হয়েছিল। তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ। তাদের তরফ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, এনসিপিতে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী সাংসদরা কী জবাব দিতে ভয় পাচ্ছেন? কেন এত সময় চাওয়া হচ্ছে? এই আবহে এবার সেই ২০ জন সাংসদকে জবাব দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিলেন লোকসভার স্পিকার।

ফলে এখন নজর ৮ অক্টোবরের দিকে। ওই দিনের মধ্যে বিদ্রোহী সাংসদ তাঁদের বক্তব্য লোকসভা সচিবালয়ে জমা দেন কি না, এবং তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে স্পিকার পরবর্তী কী পদক্ষেপ করেন সেইদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজনৈতিক মহল।