জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুই নির্বাচন কমিশনারের বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসার ২৪ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চেয়ে মাঠে নামল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। বেলা দুটোয় সাংবাদাবিক বৈঠক করে অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) ইস্তাফা দাবি করলেন CJP নেতৃত্ব। একই সঙ্গে গ্রেফতারের দাবিও জানানো হয়। এসআইআরের ফলে যে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের ফেরানোর দাবিও তোলে CJP। দাবি পূরণে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে জ্ঞানেশের পদত্যাগ না করলেন ফের দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিজির দিপকে, সৌরভ দাসরা। 

বৃহস্পতিবার, দুপুর ২টো নাগাদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেও (Abhijit Deepke), অন্যতম মুখপাত্র সৌরভ দাস (Saurav Das) ও আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা (Ashutosh Ranka)। আর প্রথম থেকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার ভোটাদের নাম বাতিল করে নির্বাচনে জিতেছে বিজেপি। এই সব কিছুর পিছনে রয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। মোদিকে প্রধানমন্ত্রী করার পিছনেও হাত রয়েছে তাঁর- অভিযোগ সিজেপির। ২০১৪-২০২০ সালের মধ্যে ভোটের হিসাব হয়েছে বদল। জ্ঞানেশ কুমারের উচিত বিজেপিতে যোগদান করা- তীব্র কটাক্ষ করেন সৌরভরা।  

সৌরভ দাসের মতে, সবাই চাইছে বদল। বাংলার ৬০ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে এসআইআর। এটা নিয়ে কমিশনের দুই কমিশনার বারবার সরব হয়েছেন। তবুও  জ্ঞানেশ  কুমার শোনেনি। দেশের গণতন্ত্রের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ইআরও দিয়ে কাজ না করিয়ে ECI ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পুরো বিষয়টা কারনো হয়। দিল্লি থেকে এই পুরো ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যাতে বিজেপি উপকৃত হয়। বাংলায় বেআইনিভাবে এসআইআর করা হয়েছে। দেশের গণতন্ত্রকে আঘাত করা হয়েছে। দেশের যুবসমাজের সঙ্গে বেইমানি করা হয়েছে। 

সিজেপি-র মতে, ২০২৪ সালে যে মুখ্যমন্ত্রীরা বিজেপিকে সরাতে জোট করেছিলেন, তাঁরাই তাঁদের রাজ্যে নির্বাচনে পরিজিত হয়েছেন- অরবিন্দ কেজরিওয়াল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- সবার ক্ষেত্রেই এই ঘটা ঘটেছে। এটা কাকতলীয় হতে পারে না। তাঁদের দাবির সপক্ষে যুক্তিতে তাঁরা জানান, মমতা থেকে কেজরিওয়াল- যাঁরা হেরেছেন- তাঁদের কেন্দ্রে পরাজয়ের মার্জিনের বেশি লোকের নাম এসআইআর-এ বাদ দেওয়া হয়েছে।

আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, নাগরিকদের সঙ্গে বেইমানি করা হয়েছে। ভোট নষ্ট করা হয়েছে। বাংলায় শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করে দিয়েছেন আগের সরকারের যোজনা রয়েছে তা শুধু মাত্র নথিভুক্ত নাগরিকদের দেওয়া হবে। তারাই সরকারি সুবিধা পাবে। বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভোটাদের নাম কাটা হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার ভোটারদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। 

সৌরভ দাস বলেন, ভোটারধিকার রক্ষা করতেই হবে। এর পরেই ৩ দাবির কথা জানান সিজেপি নেতৃত্ব। প্রথম, জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতার করতে হবে। কে জ্ঞানেশ কুমারকে নির্দেশ দিয়েছিল- সেটা তদন্ত করতে হবে। দ্বিতীয়, ২০২৫–এর ভোটার লিস্ট ফেরাতে হবে, আসন্ন সব নির্বাচন ফ্রিজ করতে হবে। তৃতীয়, এসআইআর প্রক্রিয়া সিজ করতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করা হবে। ভবিষ্য়তে যাতে বলা না হয় যে, নথি পুড়ে গিয়েছে বা হারিয়ে গিয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় পুরনো আইন সরিয়ে নতুন আনতে হবে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ফের দেশজুড়ে আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে CJP।