দিল্লির কালকাজি মন্দির সংলগ্ন আস্থা কুঞ্জ পার্কে কিশোরী গণধর্ষণের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত তিন অভিযুক্তের মধ্যে মূল অভিযুক্ত আসিফ অতীতে দিল্লি পুলিশের ‘ইনফর্মার’ বা চর হিসেবে কাজ করেছিল। এই পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণেই সে পুলিশের গতিবিধি এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর কৌশলগুলি ভালোভাবে জানত।
আরও পড়ুন: শীর্ষ আদালতে স্বস্তিতে জ্ঞানেশ-কন্যা, আকৃতি-কাণ্ডে হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ
তদন্তে নেমে ধৃতদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করার পর চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে তদন্তকারীদের। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতর মোবাইল থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু পর্ণগ্রাফিক, একাধিক আপত্তিকর ও অশ্লীল ভিডিও এবং চ্যাট হিস্ট্রি। সঙ্গে পিস্তল, ছুরি এবং কন্ডোমের প্যাকেটও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে, এটি কোনও পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ বা ধারাবাহিক অপরাধের অংশ ছিল কি না।
আরও পড়ুন: BCCI: সরছেন আগরকর, মুখ্য নির্বাচক পদে বোর্ডের পছন্দের তালিকায় ২ প্রাক্তনী
গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরী তার নাবালক বন্ধুর সঙ্গে কালকাজি মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিল। পুজো শেষে তারা পাশের আস্থা কুঞ্জ পার্কে বসে কথা বলছিল। সেই সময় আসিফ, হেমন্ত এবং মুকেশ নামের তিন যুবক সেখানে আসে।
আরও পড়ুন: ড্রয়িংরুমে কামব্যাক! মেগা ছেড়ে এবার নতুন শো-তে চমক সৌমিতৃষার
নিজেদের দিল্লি পুলিশের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে তারা ওই দুই নাবালক-নাবালিকাকে জেরা করতে শুরু করে এবং পার্কে বসার অপরাধে আইনি ব্যবস্থার ভয় দেখায়। এরপর কিশোরীর বন্ধুটিকে মারধর করে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র ও ছুরি দেখিয়ে কিশোরীটিকে পার্কের একটি নির্জন কোণায় নিয়ে গিয়ে তিনজন মিলে গণধর্ষণ করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে পার্কে মহিলাদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ধরাও পড়েন। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় ছাড়া পেয়ে যান।
ঘটনার পর নির্যাতিতার বন্ধুর পিসিআর (PCR) কলের ভিত্তিতে রাতেই তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশ। আসিফ পুলিশের ‘চর’ হিসেবে কাজ করায় তার হদিস পেতে বেশি সময় লাগেনি। মঙ্গলবার ভোরে অমর কলোনি এলাকায় আসিফকে ঘেরাও করলে সে পুলিশকে লক্ষ্য করে ৩ রাউন্ড গুলি চালায়। পুলিশের পাল্টা গুলিতে পায়ে চোট পেয়ে ধরা পড়ে সে।
আরও পড়ুন: ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন কেন? কমিশনের নিরপেক্ষ হওয়া উচিৎ: ‘খাম’ ইস্যুতে তীব্র ভর্ৎসনা হাই কোর্টের
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকি দুই অভিযুক্ত— হেমন্ত এবং তার ভাই মুকেশকে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয়। হেমন্ত আইনে স্নাতক এবং তাঁর ভাই মুকেশ গণিতে স্নাতক। অভিযুক্তদের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড অত্যন্ত শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও তাদের এমন নৃশংস মানসিকতা এবং ফোনে প্রাপ্ত অশ্লীল সামগ্রী দেখে স্তম্ভিত প্রশাসন। ধৃতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
















