বিজেপির (BJP) দল ভাঙানোর রাজনীতি এবার আছড়ে পড়ল উত্তর-পূর্বেও। একের পর এক রাজ্যে বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরানোর পর এবার বিজেপির নিশানায় ইউডিপি। একসঙ্গে আট বিধায়কই দল ছেড়ে চলে গেলেন বিজেপিতে। ফলে ১২ বিধায়কের ইউডিপিতে এখন রইল মাত্র চারজন। বুধবার দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন ইউডিপির আট বিধায়ক। তাঁদের সঙ্গে দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাও যোগ দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরে। অর্থাৎ শুধু বিধায়ক ভাঙানো নয়, ইউডিপির সাংগঠনিক ভিতেও বড় ধাক্কা দিয়েছে এই দলবদল।

আরও পড়ুন: স্ট্যান্ডিং কমিটিতে ঠাঁই নয় NCPI-কে: ফের স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের

এই আট বিধায়কের বিজেপিতে যাওয়া অবশ্য আকস্মিক নয়। বেশ কিছুদিন ধরেই মেঘালয়ের রাজনৈতিক মহলে তাঁদের দলবদল নিয়ে জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বুধবার সেই জল্পনার অবসান হল। ইউডিপির বিধায়ক লাহকমেন রিম্বুই, প্রাক্তন মন্ত্রী কিরমেন শ্যাল্লা, ওলান সিং সুইন, ম্যাথু বিয়ন্ডস্টার কুরবাহ, মেরালবোর্ন সিয়েম, পিয়াস মারওয়েন, সিনশার থাবাহ-সহ আটজন এখন বিজেপির বিধায়ক।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সামনে রাখা হয়েছে একাধিক আঞ্চলিক দাবি। খাসি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি থেকে শুরু করে আইনসিদ্ধ কয়লা উত্তোলনের অনুমতি, একাধিক বিষয় রয়েছে সেই তালিকায়। পাশাপাশি MRSSA আইনে স্বীকৃতির দাবিও রয়েছে। এই দাবিগুলিকে ঘিরেই বিজেপির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন দলত্যাগী বিধায়করা।

আরও পড়ুন: ধর্মঘটের ধাক্কা সামলাতে রবিবারও খোলা ব্যাঙ্ক, বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

কিন্তু মেঘালয়ের রাজনীতিতে এর প্রভাব শুধু ইউডিপির ভাঙনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। কারণ ৬০ আসনের বিধানসভায় আটজন নতুন বিধায়ক নিয়ে বিজেপির সংখ্যা এখন ১০। শাসক এনপিপির হাতে রয়েছে ২৬টি আসন। কংগ্রেস এবং তৃণমূলের পাঁচজন করে বিধায়ক রয়েছেন। ইউডিপি নেমে এসেছে মাত্র চারজনে।

ফলে বিধানসভায় দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়ে উঠল বিজেপি। এতদিন আঞ্চলিক দল ইউডিপির যে জায়গা ছিল, তা কার্যত দখল করে নিল গেরুয়া শিবির। আর এই বদল কনরাড সাংমার সরকারেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ শাসক জোটে বিজেপি থাকলেও এখন বিধানসভায় তাদের শক্তি আগের তুলনায় অনেক বেশি।

উত্তর-পূর্বে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে বিজেপি যে সক্রিয়, ইউডিপির এই ভাঙন সেই রাজনৈতিক অঙ্ককেই আরও স্পষ্ট করে দিল। আগামী দিনে মেঘালয়ে নিজেদের মুখ্যমন্ত্রী বসানোর লক্ষ্যে গেরুয়া শিবির কতটা এগোয়, সেটাই এখন দেখার। একই সঙ্গে এই পরিবর্তিত অঙ্কে কংগ্রেস ও তৃণমূলের উপরও যে রাজনৈতিক চাপ বাড়বে, তা স্পষ্ট।