জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশ জুড়ে বিক্ষোভে বিরোধীরা। এরমাঝেই চাপ বাড়ল কেন্দ্রের মোদি সরকারের। আচমকাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় (Union Cabinet) রদবদলের জল্পনার মধ্যেই ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান (L Murugan) । মঙ্গলবার তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পাশাপাশি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) বিজেপি নেতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Narendra Modi) চিঠি লিখে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। মুরুগানের দাবি, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তামিলনাড়ুতে দলের সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে চান তিনি। তাই কেন্দ্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে সংগঠনের কাজে পূর্ণ সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: এজলাসে বসার আগে রক্তদান! কলকাতা হাইকোর্টে বিরল নজির প্রধান বিচারপতির


মুরুগানের এই পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তার মধ্যেই মুরুগানের মন্ত্রিত্ব ও সাংসদ পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের সঙ্গে তাঁর পদত্যাগের সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।


প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে মুরুগান জানিয়েছেন, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ ও তামিলনাড়ুর সেবা করার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত সম্মানের। এবার তিনি দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূল স্তরে সংগঠনের কাজ করতে চান। সমাজমাধ্যমেও নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, দিনমজুরের সন্তান হিসেবে জীবন শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তামিলনাড়ুতে বিজেপিকে শক্তিশালী করাই এখন তাঁর লক্ষ্য। রাজনীতির ময়দানে এল মুরুগানের উত্থানও উল্লেখযোগ্য। একসময় তিনি তামিলনাড়ু বিজেপির রাজ্য সভাপতি ছিলেন।

 ২০২১ সালের ৭ জুলাই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মুরুগান। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের পাশাপাশি সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করছিলেন তিনি। এর আগে তামিলনাড়ু বিজেপির রাজ্য সভাপতি ছিলেন মুরুগান। এবার কেন্দ্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে রাজ্য রাজনীতিতে সংগঠনের কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।