মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) ইস্তফার দাবিতে দিল্লির রাজপথে নেমেছে সিজেপি (CJP) এবং বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ ব্লক। আর এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে নিজেদের নজরদারি আরও বাড়াল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। উস্কানিমূলক বার্তা, ভুয়ো খবর ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে প্রায় ১০০টি সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট (Social Media Account) ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাঁচ মাসের অচলাবস্থার অবসান, উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদ পেল নতুন সভাধিপতি
পুলিশের দাবি, চলতি বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে এমন সব পোস্ট করা হচ্ছিল, যা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ভুয়ো তথ্য ছড়ানো থেকেও বিরত থাকতে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। তবে শুধু সমাজমাধ্যমেই নয়, বিক্ষোভের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) মোতায়েনের মেয়াদ ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি, আরও ২৮০০ জওয়ান রাজধানীতে আসতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুন: ৫৬ শতাংশ সংরক্ষণে আপত্তি, হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পথে কর্নাটক সরকার
এর মধ্যেই প্রতিবাদ কর্মসূচির জায়গা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে টানাপড়েন। সোমবার দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সিজেপি। তাদের দাবি, কোথায় এবং কবে পরবর্তী বিক্ষোভ হবে, তা দ্রুত জানাতে হবে। অন্যথায় বড় পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট, যন্তর-মন্তরে আর বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে না।
বিকল্প হিসেবে তিনটি জায়গার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। তার মধ্যে অন্যতম রামলীলা ময়দান। কিন্তু সেখানেও রয়েছে অন্য সমস্যা। সূত্রের খবর, ময়দানটি বুক করতে খরচ পড়ে ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। তার উপর চলতি বছরের জন্য বুকিংও ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে বিকল্প জায়গায় বিক্ষোভ আয়োজন করা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ বাড়ছে সিজেপি শিবিরে। নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতে যন্তর-মন্তর থেকেই আন্দোলন শুরু করেছিল দলটি। এবার সেই পরিচিত প্রতিবাদস্থলেই যেতে না পারার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পুলিশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন দলের নেতারা। ‘সিজেপি’ নেতা অভিজিতের হুঁশিয়ারি, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করতে বাধা দেওয়া হলে গোটা দেশকেই যন্তর-মন্তরের মতো প্রতিবাদের মঞ্চে পরিণত করা হবে। ফলে রাজধানীতে বিক্ষোভের উত্তাপ কমার বদলে আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।















