সিজেপি (CJP) তথা 'ইন্ডিয়া' ব্লকের জ্ঞানেশ- বিরোধী আন্দোলন রুখতে দিল্লিকে (Delhi) কার্যত দুর্গে পরিণত করেছে পুলিশ। জায়গায়- জায়গায় ব্যারিকেড, পুলিশি ধরপাকড়, ড্রোন নজরদারি, সব মিলিয়ে রাজধানীকে কার্যত কারফিউর পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে প্রশাসন। আর তার ফলেই উৎসবের মরশুমে মাথায় হাত উঠেছে ব্যবসায়ীদের। নবরাত্রি চলছে, সামনে দীপাবলি। এই উৎসবের দিনগুলিতে ভালোই কেনাকাটা হয় দিল্লি জুড়ে। মানুষের ভিড় দেখা যায় মার্কেট গুলিতে। কিন্তু পুলিশের এই রণমূর্তি মানুষকে ঘরে থাকতে বাধ্য করছে। রাস্তা বন্ধের কারণে স্বাভাভিক বাজার -ঘাট জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। আর তাতেই বড় লোকসানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) সেই অবরোধের কারণে ২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। এই বিষয়ে দিল্লি হাই কোর্টের (Delhi High Court) দ্বারস্থ হয়েছে তাঁরা।
আরও পড়ুন: আমেরিকায় পা রাখতেই 'সন্ত্রাসী' তকমা ইউনুসকে! লজ্জায় ব্যস্ত হলেন মুখ লুকোতে
দিল্লি পুলিশের তরফে সভা-সমাবেশের জন্য যে সমস্ত জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে নির্দিষ্ট বিধি (SOP) মানার আর্জি জানিয়ে আইনজীবী এবং ব্যবসায়ীদের সংগঠন। মঙ্গলবার আবেদনদগুলি জরুরি ভিত্তিতে শুনতে রাজি হয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন: সংস্কৃতি-সিএএ শংসাপত্র-উন্নয়নে জোর: পুজো উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে ত্রিফলা বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
মামলাকারীদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী সচিন পুরী। তিনি বলেন, “আমরা চাই নির্দিষ্ট বিধি প্রয়োগ করা হোক। সুপ্রিম কোর্ট তেমনটাই বলেছে। আমরা চাই আমাদের ন্যূনতম অধিকার রক্ষিত হোক।” কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আদালতে জানান, দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তবে দিল্লি হাই কোর্টের শুনানি নিয়ে আপত্তি জানাননি তিনি।
ভোটপ্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে, এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে অবস্থানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। এই কর্মসূচির আগেই দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আন্দোলনকারীরা যাতে জমায়েতে যোগ দিতে না-পারেন, তার জন্য দিল্লিমুখী ২৪০টি ট্রেন বাতিল করা হয়। বন্ধ করা হয় দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন।
শনিবার আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেয়নি পুলিশ। যেখানেই জমায়েতের চেষ্টা হয়েছে, সেখানেই চলেছে পুলিশি ধরপাকড়। তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আটকশিবিরে। শনিবারের ওই ধরপাকড়কে ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গাঁধীর আমলের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছে সিজেপি। সাংবাদিক বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘স্বৈরাচারী’ বলেও আক্রমণ শানান সৌরভ এবং আশুতোষ। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘আসল দেশদ্রোহী’ বলেও কটাক্ষ করেন ‘ককরোচেরা’। জ্ঞানেশকে ‘বাঁচাতে’ বিজেপি কেন এত ‘তৎপর’, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিজেপি নেতৃত্ব।















