যে আকাশ একদিন ছিল স্বপ্নের ঠিকানা, আজ সেখানেই ইতিহাসের নতুন পরিচয় তৈরি করলেন বিহারের ভাবনা কান্থা (Bhavna Kantha from Bihar)। ভারতীয় বায়ুসেনায় (Indian Air Force) দেশের প্রথম মহিলা ফাইটার কমব্যাট লিডার (country's first female fighter combat leader) হয়ে নজির গড়লেন তিনি। দারভাঙার বাউর গ্রামের এই কন্যার সাফল্য শুধু তাঁর পরিবারের গর্ব নয়, দেশের সামরিক ইতিহাসেও এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন। বাবার পাইলট (Pilot) হওয়ার ইচ্ছা পূরণ না হলেও, মেয়ের হাত ধরে বিমানচালনার স্বপ্ন যেন পেল নতুন সার্থকতা। তবে এই অর্জনের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ অধ্যবসায়, কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার সাহস এবং নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকার কাহিনি।
আরও পড়ুন: মহালয়ার ভোরে চরম অপমান! পঙ্কজ মল্লিকের প্রশ্নে চিরতরে রেডিও ছাড়েন গায়িকা
ভাবনার জীবনপথে সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০১৬ সালে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়াশোনা শেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার চাকরি ছেড়ে তিনি বেছে নেন এই পথ। এএফসিএটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বায়ুসেনায় যোগ দেওয়ার সময় মহিলাদের যুদ্ধবিমান চালানোর সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। নিয়মের সেই বেড়াজাল কাটিয়ে অবনী চতুর্বেদী (Avani Chaturvedi) ও মোহনা সিংয়ের (Mohana Singh) সঙ্গে তিনিও ফাইটার পাইলট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন প্রথমে। সেই শুরু। পরবর্তী সময়ে প্রতিটি ধাপে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এবার পৌঁছে গেলেন এমন এক জায়গায়, যেখানে তাঁর আগে কোনও ভারতীয় মহিলা এই যোগ্যতা অর্জন করেননি।
আরও পড়ুন: রাজ্যে এবার ট্রিপল ইঞ্জিন! পুরভোটের টার্গেট বাঁধলেন শুভেন্দু
এই স্বীকৃতির পিছনে রয়েছে বায়ুসেনার অন্যতম কঠিন বিশেষ প্রশিক্ষণ। গোয়ালিয়রের ট্যাকটিকস অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্টে ২০ সপ্তাহের নিবিড় প্রশিক্ষণ শেষ করেন ভাবনা। উন্নত যুদ্ধকৌশল প্রয়োগ, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং আকাশপথে সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পাইলটদের প্রস্তুত করে এই কর্মসূচি। বাছাই করা অল্প কয়েকজন ফাইটার পাইলটই এখানে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। এই পর্যায় সফলভাবে অতিক্রম করার অর্থ, শুধু দক্ষ বিমানচালক হিসেবে নয়, জটিল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযুক্ত অফিসার হিসেবেও নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করা।
কেরিয়ারের শুরু থেকেই একের পর এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে ভাবনার ঝুলিতে। ২০১৮ সালে মিগ-২১ বাইসন যুদ্ধবিমানে একক উড়ান সম্পন্ন করেন তিনি। পরের বছর দিনের বেলায় যুদ্ধাভিযানের অনুমোদন পেয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছোঁন। মহিলাদের ক্ষমতায়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পান নারী শক্তি পুরস্কার। বর্তমানে সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান চালানোর দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। তাঁর সাম্প্রতিক কৃতিত্বে সম্মান জানিয়েছেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং।
আরও পড়ুন: ঢেলে সাজবে পুলিশবাহিনী, হবে বিপুল নিয়োগ: সময়সীমা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
ভাবনার সাফল্যের তাৎপর্য তাঁর পদ বা প্রশিক্ষণের স্বীকৃতির চেয়েও অনেক বড়। যে ক্ষেত্রে একসময় মহিলাদের অংশগ্রহণের পথই ছিল বন্ধ, সেখানে আজ নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন করে তিনি বদলে যাওয়া ভারতের ছবি তুলে ধরেছেন। তাঁর যাত্রা মনে করিয়ে দেয়, স্বপ্নের পথে বাধা আসতে পারে, কিন্তু সেই বাধাই শেষ কথা নয়। বাবার অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজের শৈশবের স্বপ্নকে মিলিয়ে ভাবনা আজ বহু তরুণীর অনুপ্রেরণা। তাঁর এই অর্জন আগামী দিনে আরও অনেক মেয়েকে যুদ্ধবিমানের ককপিটে বসার এবং দেশের প্রতিরক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখাবে।















