মাসিক বেতনের ঊর্ধ্বসীমা ১৫ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু বেতন বাড়লেই কি মিলবে পেনশনের সুবিধা? নয়া নিয়মের মধ্যে কর্মীদের যোগ্যতা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা EPFO। বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের অবসরকালীন সঞ্চয় ও সামাজিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে চালু রয়েছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা EPF। এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম (EPS) এবং এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিঙ্কড ইনসিয়োরেন্স (EDLI)-এর মতো প্রকল্পও। এবার বাধ্যতামূলক EPF-এর বেতনসীমা বৃদ্ধির পর EPS-এ কারা পেনশনের সদস্য হতে পারবেন, তা নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল EPFO।

আরও পড়ুন: বাবার অপূর্ণ ইচ্ছের আকাশ স্পর্শ মেয়ের! ভারতীয় বায়ুসেনায় প্রথম মহিলা ফাইটার কমব্যাট লিডার ভাবনা

গত ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বাধ্যতামূলক EPF-এর মাসিক বেতনসীমা ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে সংশোধিত সীমা কার্যকর হয়েছে। এর ফলে আগে বেতন ১৫ হাজার টাকার বেশি হওয়ায় বাধ্যতামূলক সামাজিক সুরক্ষার আওতার বাইরে থাকা বহু কর্মী নতুন করে এই ব্যবস্থার আওতায় আসার সুযোগ পাচ্ছেন। কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিবর্তনে ৫১ লক্ষেরও বেশি অতিরিক্ত কর্মী উপকৃত হতে পারেন। তবে অন্যান্য প্রযোজ্য শর্তও পূরণ করতে হবে।

EPFO-র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নিয়মে যোগ্য কর্মীদের মাসিক বেতন ২৫ হাজার টাকা বা তার কম হলে EPS-এ সদস্যপদ বাধ্যতামূলক। সেই অনুযায়ী পেনশন প্রকল্পে প্রযোজ্য অবদান জমা পড়বে। তবে শুধু বেতনের অঙ্ক দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না; প্রকল্পের যোগ্যতার শর্ত পূরণ করাও জরুরি। এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। যাঁদের মাসিক বেতন ২৫ হাজার টাকার বেশি এবং যাঁরা আগে কখনও EPS-এর সদস্য ছিলেন না, তাঁরা শুধুমাত্র নতুন বেতনসীমার ভিত্তিতে এই প্রকল্পে নতুন সদস্য হওয়ার যোগ্য হবেন না। 

অন্যদিকে, আগে থেকেই EPS-এর সদস্য থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রে বেতন পরে ২৫ হাজার টাকার বেশি হয়ে গেলেও সদস্যপদ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। অর্থাৎ, বেতনসীমার পাশাপাশি কর্মীর পূর্ববর্তী সদস্যপদের ইতিহাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেতনসীমা বৃদ্ধির ফলে যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে EPS-এ নিয়োগকর্তার সর্বোচ্চ মাসিক অবদানের হিসাবও বদলাবে। পেনশনযোগ্য বেতনের সর্বোচ্চ সীমা ১৫ হাজার টাকা থাকাকালীন ৮.৩৩ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ অবদান ছিল মাসে ১,২৪৯.৫০ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ১,২৫০ টাকা। নতুন ২৫ হাজার টাকার সীমা ধরে হিসাব করলে তা বেড়ে মাসে প্রায় ২,০৮২.৫০ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ২,০৮৩ টাকা হতে পারে। তবে এটি সর্বোচ্চ সীমা ধরে করা হিসাব—প্রত্যেক কর্মীর ক্ষেত্রে একই অঙ্ক জমা পড়বে, এমন নয়।

উল্লেখ্য, EPS-এ নিয়োগকর্তার অবদান তাঁর EPF-সংক্রান্ত মোট অবদানেরই একটি অংশ। এটি কর্মীর বেতন থেকে আলাদা করে অতিরিক্ত পেনশন-চাঁদা কেটে নেওয়ার বিষয় নয়। EPF-এ অবসরকালীন সঞ্চয় গড়ে ওঠে, EPS যোগ্য সদস্যদের পেনশনের সুবিধা দেয় এবং EDLI নির্দিষ্ট শর্তে জীবনবিমার সুরক্ষা প্রদান করে। EPFO-র পরামর্শ, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও EPS-এর জন্য প্রযোজ্য অবদান জমা না পড়লে প্রথমে নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাতেও সমস্যার সমাধান না হলে EPFO-র অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বেতনের বিবরণ, কর্মসংক্রান্ত নথি এবং EPF পাসবুকের তথ্য যাচাই করে রাখা প্রয়োজন।