ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত এক বিক্ষোভে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে চরম পুলিশি হেনস্থা ও নাটকীয় পরিস্থিতির মুখে পড়েন বলিপাড়ার একাধিক তারকা। এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় বলিউড সুপারস্টার আমির খানের ভাইঝি জায়ন মারি খান, ভাগ্নে তথা অভিনেতা ইমরান খান এবং অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটনকে সাময়িকভাবে আটক করে মুম্বই পুলিশ। পরবর্তীকালে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলেও, মুক্তি পাওয়ার পর নিজের শরীরে একাধিক আঘাত ও ক্ষতের চিহ্ন প্রকাশ্যে এনেছেন আমিরের ভাইঝি জায়ন মারি।

আরও পড়ুন: আদালত চত্বরে পান-গুটখা-সিগারেট নিষিদ্ধ করতে উদ্যোগী হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি

আটক পর্ব কেটে যাওয়ার পর রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন জায়ন মারি। সেখানে তিনি তাঁর হাত, আঙুল এবং পায়ে হওয়া একাধিক কালশিটে ও ক্ষতের দাগ দেখান। মুম্বই পুলিশের এই চরম পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের আঘাতের ছবি শেয়ার করে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জায়ন লেখেন, “আমাদের এমন ভয় দেখাবেন না যাতে মন থেকে ভয় শব্দটাই চিরতরে মুছে যায়!” ক্যাপশনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ইন্টারনেটে আসল সত্যিটা প্রকাশ পাচ্ছে”।

আরও পড়ুন: গান চলাকালীন সিট ছাড়লেই মুশকিল! দেবেন্দ্র-পত্নী অমৃতার দিল্লির শো নিয়ে ট্রোলের বন্যা নেটপাড়ায়

এর আগে শনিবার পুলিশ ভ্যানে বন্দি থাকা অবস্থায় একটি ছবি পোস্ট করে জায়ন লিখেছিলেন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। ওই একই ভ্যানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ইমরান খানও। চরম থমথমে পরিস্থিতির মাঝেও হালকা ছলে ইমরানকে যখন জায়ন জিজ্ঞেস করেন তিনি আগে কখনও জেলে গিয়েছেন কি না, তখন ইমরান হেসে উত্তর দেন, “যা পরিস্থিতি, তাতে এখন জেলে যাওয়ারও একটা সুযোগ তৈরি হচ্ছে!” অন্যদিকে, অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটনও একটি ভিডিওর মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, পুলিশ তাঁদের কোনও গাড়ি বা যানবাহনে উঠতে দিচ্ছিল না এবং তাঁরা বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরেছেন।

আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশ বিনা প্ররোচনায় বলপ্রয়োগ করেছে এবং নারী আন্দোলনকারীদের হেনস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আলোর অভাবে নষ্ট ৬০ ওভার! গোলাপি বল নিতে অনীহা দলগুলির

তবে পুলিশি হেনস্থা ও মারধরের এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুম্বই পুলিশের পক্ষ থেকে সাফাই দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, সিজেপি-র এই বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে আগে থেকে কোনও আইনি অনুমতি নেওয়া হয়নি। বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আজাদ ময়দান ছাড়া অন্য কোথাও এই ধরণের বড় কোনো বিক্ষোভ বা সমাবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। এই কারণেই শনিবার অগাস্ট ক্রান্তি ময়দান থেকে ইমরান, জায়নদের পাশাপাশি প্রায় ৪০০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছিল। যদিও সিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, তাঁরা ইমেলের মাধ্যমে অনেক আগেই অনুমতির আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশের তরফ থেকে কোনও প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়নি।

আমির খানের পরিবারের সদস্যদের এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং আটকের পর গায়ে আঘাতের দাগ প্রকাশ্যে আসায় স্বাভাবিকভাবেই দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশের এই ভূমিকার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন নেটিজেনদের একাংশ।