'ভোট চুরি' থেকে নির্বাচন কমিশনের (Election Commision) নিরপেক্ষতা, একাধিক অভিযোগে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব বিরোধীরা। এবার সেই প্রতিবাদকে ‘শিবের তাণ্ডব নৃত্য’-এর সঙ্গে তুলনা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি (Rahul Gandhi)। রাহুলের কথায়, এই আন্দোলন কোনও বাঁধাধরা পরিকল্পনায় চলবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী ঠিক হবে পরবর্তী পদক্ষেপ। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে অভিযোগ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আবেদন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: আদালত চত্বরে পান-গুটখা-সিগারেট নিষিদ্ধ করতে উদ্যোগী হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি

সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে রাহুল জানান, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং তিনি দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠির জবাবে আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই মতো ইন্ডিয়া ব্লকের নেতাদের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাহুল।

আরও পড়ুন: সরকারের অন্দরেই রাহুলের ‘খবরি’! জ্ঞানেশকে রাজসাক্ষী হওয়ার ‘পরামর্শ’ লোকসভার বিরোধী দলনেতার

কিন্তু কেন এই আন্দোলনের কোনও নির্দিষ্ট রূপরেখা নেই? সেই প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শিবের তাণ্ডবের প্রসঙ্গ টানেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর কথায়, এই প্রতিবাদকে আগে থেকে ঠিক করে দেওয়া কোনও কৌশলের মধ্যে আটকে রাখা যাবে না। এখন সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী দিনে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য কর্মসূচিও হতে পারে।

আন্দোলনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ের বাধা রাখতে চান না রাহুল। শিবের বরযাত্রার উদাহরণ দিয়ে তাঁর বক্তব্য, সংবিধান রক্ষার দাবিতে যাঁরা পথে নামবেন, তাঁদের সকলকেই স্বাগত জানানো হবে। কে কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তা বিবেচ্য নয়। গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে সকলের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত বিরোধীরা।

দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশ কার্যত অত্যাচার করছে। এদিকে জ্ঞানেশের নিরাপত্তা বেড়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। রাহুলের কথায়, প্রতিবাদকারীদের উপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, অথচ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে কেন?

প্রতিবাদের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে তাঁর বোনের সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাহুল। তিনি জানান, তাঁর বোন আন্দোলনের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির কথা বলেছিলেন। কিন্তু রাহুলের মতে, এই ধরনের প্রতিবাদকে পূর্বনির্ধারিত ছকে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে অভিযোগ থেকে সংবিধান রক্ষার দাবি, বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের আন্দোলনকে বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছেন রাহুল। তাঁর বার্তা, প্রতিবাদের ধরন বা নেতৃত্ব আলাদা হলেও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে একজোট হওয়ার দরজা খোলা রয়েছে।