‘‘বাবা সব সামলে নেবেন’’—তিনটি প্রাণ চলে যাওয়ার পর এক তরুণের এমন মন্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কোচিতে (Kochi) একটি মিনি কুপারের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে মোটরবাইকে থাকা ২১ থেকে ২২ বছর বয়সী তিন যুবক-যুবতীর। অভিযুক্ত চালক সুহেল সজীবের (Suhel Sajib) বয়স মাত্র ১৯ বছর। দুর্ঘটনার পর তাঁকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তদন্তকারীদের কাছে তাঁর কথাবার্তা ও আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: প্রেমের প্রত্যাখ্যানে কর্মরত নার্সকে যৌন হেনস্থা-মারধর! গ্রেফতার BMOH

রবিবার রাতের এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ইজাজ, গোপিকা ও দেবিকা। রাত ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কোচি বিমানবন্দরের (Kochi Airport) সামনের রাস্তায় বাইকটি যাচ্ছিল। চালকের আসনে ছিলেন ইজাজ, পিছনে বসেছিলেন গোপিকা ও দেবিকা। তিনজনই একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। পিছন থেকে আসা গাড়ির প্রবল ধাক্কায় বাইক থেকে ছিটকে পড়েন তাঁরা। শুধু ধাক্কা দিয়েছে এমনটাই নয় বাইকটিকে প্রায় ১০০ মিটার টেনে নিয়ে যায় গাড়িটি।

আরও পড়ুন: আদালত চত্বরে পান-গুটখা-সিগারেট নিষিদ্ধ করতে উদ্যোগী হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি

তদন্তে উঠে এসেছে, দুর্ঘটনার আগে একটি পানশালায় গিয়ে মদ্যপান করেছিলেন সুহেল। এরপর গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে দ্রুতগতিতে চলার সময় এই বিপর্যয় ঘটে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা।

দুর্ঘটনার পর সুহেলের কথাবার্তা ঘিরে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। অভিযোগ, রাস্তা গাড়ি চালানোর জন্যই তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করে সুহেল। তিনজনের মৃত্যুর প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য ছিল, তাঁর বাবা বিষয়টি সামলে নেবেন। এই ঘটনার পর স্থানীয়দের ক্ষোভের ছবিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওয় (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বিশ্ববাংলা সংবাদ) অভিযুক্তকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে।

আরও পড়ুন: সরকারের অন্দরেই রাহুলের ‘খবরি’! জ্ঞানেশকে রাজসাক্ষী হওয়ার ‘পরামর্শ’ লোকসভার বিরোধী দলনেতার

এদিকে, এই ঘটনার পর রাজ্যের পানশালাগুলির উপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেরলমের আবগারি মন্ত্রী। অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে বেআইনিভাবে মদ বিক্রি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট পানশালার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোচির এই ঘটনা ফের স্পষ্ট করে দিল, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিপদ কতটা ভয়াবহ হতে পারে। পাশাপাশি, আইন ভাঙার পর প্রভাব খাটিয়ে দায় এড়ানোর মানসিকতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।