মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে উত্তপ্ত কেন্দ্রীয় রাজনীতি। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপও করেছে দিল্লি পুলিশ। রাস্তাঘাটে যাতায়াতের উপর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, বন্ধ রাখা হয়েছিল ইন্টারনেট পরিষেবাও। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে আইনজীবীদের। এরপরেই কড়া বার্তা দিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি। সাফ জানিয়ে দিলেন, সুপ্রিম কোর্টকে কোনও ধরনের রাজনীতিতে টেনে আনা উচিত নয়।

আরও পড়ুন: EVM সঙ্কট! পুরভোট-মামলায় কমিশনের রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের সময় অনেক আইনজীবীকে পুলিশ আটক করেছিল বলে অভিযোগ। আইনজীবীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ এবং সেই সংক্রান্ত উদ্বেগ সোমবার শীর্ষ আদালতে ব্যক্ত করেন সিনিয়র আইনজীবী আত্মারাম নাদকর্নি এবং সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্রদীপ রাই। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যদের বেঞ্চ মঙ্গলবার মামলাটি শুনবে বলে জানিয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়েই বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছেন, "এই সমস্ত গণতান্ত্রিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া উচিত। তবে সুপ্রিম কোর্টের কাজকর্মের ক্ষেত্রে...আমি আন্দোলনকারীদের কাছেও অনুরোধ করেছি। সুপ্রিম কোর্টকে কোনও ধরনের রাজনীতির মধ্যে টেনে আনা উচিত নয়।"

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন,"দেশে গণতান্ত্রিক কার্যকলাপ সুষ্ঠু ভাবে চলতে হবে। তবে কোনও পরিস্থিতিতেই সুপ্রিম কোর্টের কাজকর্ম কিংবা আইনজীবী, আদালতের কর্মী ও বিচারপ্রার্থীদের রাস্তাঘাটে চলাচলে কোনও বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।"

রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী শিবিরের নেতারা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে নির্বাচন পদ্ধতিতে গরমিল, ভোট চুরি, জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার মতো দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন৷ তবে গতকাল রাতেই বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়ে দেন, তিনি বিরোধী শিবিরের সঙ্গে দেখা করবেন না৷ 

এ দিন দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি অনুষ্ঠানের পর সূর্য কান্ত দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্ট কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে না, শুধুমাত্র নিজের দায়িত্ব পালন করছে৷ 

আরও পড়ুন: সরকারের অন্দরেই রাহুলের ‘খবরি’! জ্ঞানেশকে রাজসাক্ষী হওয়ার ‘পরামর্শ’ লোকসভার বিরোধী দলনেতার

জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে এবং এসআইআর বাতিল করতে চেয়ে সিজেপি পথে নেমেছিল গত শনিবার, ১০ অক্টোবর। তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। জমায়েত রুখতে নানা পদক্ষেপ করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময় আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি আইনজীবী, সাংবাদিকদেরও আটক করেছিল পুলিশ। তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া, সোমবার বিকেলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন রাহুলও।