দুর্গাপুজো মিটলেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন (KMC Election)। ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে কমিশন। দুই উপ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর রেকর্ড মার্জিনে পুরসভাতেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বিজেপি। কিন্তু প্রার্থী কই? মানে দলের অভ্যন্তরে এতই করুণ অবস্থা যে পুরসভা ভোটে প্রার্থী হওয়ার জন্য সমাজের বিভিন্ন স্তরের কৃতিদের বায়োডাটা জমা করার প্রস্তাব কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumder)! রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, নতুন কলকাতা তৈরি করতে সমাজের প্রথিতযশা, কৃতি ও যুব সমাজের প্রতিনিধি চাইছে বিজেপি। আর তাই প্রস্তাবিত ২০৯ টি ওয়ার্ডে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য ড্রপবক্সের ব্যবস্থা করা হল।

বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে বাংলায় সরকার গড়েছে বিজেপি। কিন্তু সংগঠন কই? হাতেগোনা কর্মী সমর্থক এবং দলবদলুদের নিয়ে রাজ্য চালানো সহজ নয়। সরকার গড়ার পাঁচ মাসের মধ্যেই যেভাবে অপরাধের সংখ্যা বেড়েছে, দিকে দিকে পদ্ম নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে তার থেকে এটা স্পষ্ট যে দলের রাশ বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের হাতে নেই। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দলীয় মতানৈক্য। এর মাঝেই পুরনিগম নির্বাচনের আগে প্রার্থী খুঁজতে ড্রপ বক্সের ব্যবস্থা ফের বিজেপির দৈনদশা প্রকট করে তুলল। যদিও রাজ্যের শাসক দল সে কথা মানতে নারাজ। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সুকান্ত বলেন, '৪৯ বছর মানুষ পরিষেবা পাননি। স্পিড ব্রেকার সরে যেতেই কাজে গতি এসেছে। প্রার্থী বাছাইয়ে একাধিক বিষয়ে নজর দিতে হবে। নির্বাচনে লড়াইয়ে দিচ্ছে থাকলে ড্রপ বক্সে জানান।'

আগামী সোমবার থেকে মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির কার্যালয়ে ড্রপ বক্স রাখা থাকবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, আগ্রহীরা নিজেদের বায়োডাটা সেই বক্সে দিয়ে যেতে পারবেন। তবে যাঁদের জেতার ক্ষমতা আছে তাঁদেরই টিকিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সুকান্ত। কিন্তু বিজেপির এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ করতে শুরু করেছেন বিরোধীরা। যেহেতু জনসমর্থনে পদ্ম সরকার ক্ষমতায় আসেনি, তাই কয়েক মাস যেতে না যেতেই মানুষ শাসক দলের উপর আস্থা রাখছে না বলে পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দেওয়ার লোক পাচ্ছে না, এমনটাই দাবি বিরোধীদের।