মুখ্যমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও নিজের অবস্থান থেকে সরলেন না প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)
। নিজের বাড়িতে হামলার ঘটনায় ফেসবুক পোস্টে ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ওই শব্দ প্রত্যাহার করার কোনও প্রশ্নই নেই। পালটা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) তাঁর প্রশ্ন, “আপনাকে এই অধিকার কে দিয়েছে?”

আরও পড়ুন: দলে লোক নেই! পুরসভার প্রার্থী বাছাইয়ে ড্রপ বক্সের ব্যবস্থা বিজেপির

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার ভোরে। অভিযোগ, যাদবপুরের (Jadavpur) কাছে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা চালায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। মুখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ও কাঁচের বোতল ছোড়া হয়। ভেঙে যায় জানলার কাঁচ। এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়ে হামলার নেপথ্যে ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডা’দের দায়ী করেন তিনি। এরপরই বিকাশরঞ্জনের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের সঙ্গে তৃণমূলের যোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একটি জনসভা থেকে তিনি বিকাশরঞ্জনকে ফেসবুক পোস্ট (Facebook Post) থেকে ওই শব্দ প্রত্যাহারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেন। পাশাপাশি, শব্দটি সংশোধন না করলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

কিন্তু রবিবার সেই সময়সীমা শেষ হলেও নিজের পোস্ট সংশোধন করেননি বিকাশরঞ্জন। বরং তাঁর বক্তব্য, “আমি কেন পোস্ট থেকে ওই শব্দটা ডিলিট করব? অপরাধ করেছে ওরা।” তাঁর ব্যাখ্যা, হিন্দু ধর্ম এবং হিন্দুত্ববাদ এক বিষয় নয়। হিন্দুত্ববাদকে তিনি গুন্ডামির তত্ত্ব বলে ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে, তাঁর মতে, হিন্দুত্বের ধারণা বহুত্ববাদ ও সকলকে গ্রহণ করার সঙ্গে যুক্ত। হিন্দু ধর্মের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদের পার্থক্য রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই প্রবীণ আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, আগে নিজের অধিকারের পক্ষে যুক্তি দিতে হবে। ফলে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও বিকাশরঞ্জনের অনড় অবস্থানে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।