বন্ধ ট্রেন-মেট্রো, শনিবার সকাল থেকে দিল্লির সব বড় বড় রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে প্রশাসন, কিন্তু তাতেও আটকানো যাচ্ছে না ককরোচদের। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ সহ ৩ দফা দাবি নিয়ে বিজেপির ডাকা দিল্লি চলো অভিযানের সকাল থেকেই এদিন ভিড় বাড়ছে যন্তর মন্তরে। পুলিশের 'অতিসক্রিয়তা'র মাঝেই রাজধানী জুড়ে জোরালো হচ্ছে কেন্দ্রের শাসকদল বিরোধী স্লোগান। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অন্তত ১০০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিজিৎ দিপকেরা দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ আটকাতে রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্ধ ইন্টারনেট, চলছে আকাশপথে ড্রোন নজরদারি। 

পুলিশ ও আধাসেনায় দিল্লি যেন দুর্গে পরিণত হয়েছে।এদিন রাজধানীর রাস্তায় ৪০ হাজারের বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন রয়েছে বলে খবর মিলেছে। যন্তর মন্তরের আশপাশে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এদিন রাত ১০ টা পর্যন্ত সব নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে। নয়াদিল্লিকে ২০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। এক একটির দায়িত্বে রয়েছেন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার এক জন করে আধিকারিক। দিল্লি পুলিশের ১৫ হাজার কর্মীর সঙ্গে আজ রাজধানীর রাস্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ২৬ হাজার জওয়ান রয়েছেন। আন্দোলনকারীদের মিছিলের আশঙ্কায় ৩৭টি জায়গা চিহ্নিত করে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে নয়াদিল্লি এবং হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে যে সমস্ত মেল এবং এক্সপ্রেস ট্রেন আসার কথা ছিল, সব বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। 

শুক্রবার রাতেই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ জানিয়েছিলেন তিনি সকালেই দিল্লি পৌঁছবেন। হয়তো বিমানবন্দরেই তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে এভাবে সিজেপি ও জেন জির প্রতিবাদকে আটকানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যন্তর মন্তর ২.০ শুরু হওয়ার আগে এদিন সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে একের পর এক জ্ঞানেশ বিরোধী পোস্ট সিজেপির।'জ্ঞানু গদ্দার' সম্বোধন করে জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। পাশাপাশি আজকের প্রতিবাদ কর্মসূচির উদ্দেশ্য সকলকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বাড়ি থেকে যন্তর মন্তরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন অভিজিৎ- আশুতোষ-সৌরভরা। বিক্ষোভস্থলে সিজেপির সমর্থকদের ভিড় বাড়তেই ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ধরপাকড়। গুরুগ্রামে আটক করা হয়েছে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে(Dhruv Rathee)।